উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ হিন্দু পুলিশ অফিসারকে পুড়িয়ে মারার কথা ক্যামেরার সামনে দম্ভের সঙ্গে স্বীকার করা বাংলাদেশি ছাত্রনেতা মেহেদি হাসানকে দিল্লিতে আটক করা হলো (Mehdi Hasan Arrested)। বুধবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন চেক চলাকালীন তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। পরে দিল্লি পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয় এবং বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে বলে সূত্রের খবর। দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান ফিনল্যান্ডে যাওয়ার ভিসার আবেদন করতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিল্লির ভিএফএস (VFS) গ্লোবাল সেন্টারে এসেছিলেন। সেখানে তাঁকে দেখে অনেকেই চিনে ফেলেন এবং তাঁর ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাঁকে ফোনে লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মেহেদি হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা বেশ লম্বা। অতি সম্প্রতি বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সদস্যকে ছাড়াতে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে আঙুল উঁচিয়ে শাসাতে দেখা যায় তাঁকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে (সন্তোষ চৌধুরী) কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম।” ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দায় কার্যত থানার ভেতরে বসেই স্বীকার করে নেন তিনি।
থানায় পুলিশকে হুমকির এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তাঁকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের মাত্র একদিন পরেই জামিন পেয়ে যান এই ‘বিপ্লবী’ নেতা। জামিনে মুক্ত হয়েই তিনি ফিনল্যান্ড যাওয়ার ছক কষে ভিসা ইন্টারভিউ দিতে ভারতে চলে আসেন।
বুধবার ইন্ডিগোর একটি বিমানে তাঁর ঢাকা ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন আধিকারিকরা তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর তাঁকে দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আটক করে বিশেষ প্রহরায় বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
