Maynaguri | গ্যাস সংকটে ময়নাগুড়ির হোটেলে তালা! মেনু ছাঁটাইয়ের পর এবার ডিজেল ও কাঠের উনুনে ভরসা ব্যবসায়ীদের

Maynaguri | গ্যাস সংকটে ময়নাগুড়ির হোটেলে তালা! মেনু ছাঁটাইয়ের পর এবার ডিজেল ও কাঠের উনুনে ভরসা ব্যবসায়ীদের

ব্লগ/BLOG
Spread the love


অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে৷ বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের ওপর অনির্দিষ্টকালের লাগাম টেনেছে তেল সংস্থাগুলি। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁগুলিতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেয়ে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়েছেন ময়নাগুড়ির (Maynaguri) হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

গ্যাসের আকালে ময়নাগুড়ি শহরের একটি হোটেলে তালা পড়েছে। আরও কয়েকটি হোটেলও বন্ধের মুখে। গ্যাসের সংকটের জেরে হোটেলগুলিতে নিত্যদিনের মেনু ছাঁটাই করা হয়েছে, কেউ আবার বিকেলের পর হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেলের ওভেন কিংবা অস্থায়ীভাবে কাঠের উনুনে রান্না করার কথা ভাবছেন হোটেল ব্যবসায়ীদের বড় অংশ।

ময়নাগুড়িতে এলপিজি গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটার সুপ্রিয় মুৎসুদ্দি বলেন, ‘বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার ফলে গ্যাস আসছে না। তবে অল্প যা স্টক রয়েছে তাতে সামান্য গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

ময়নাগুড়ি শহরের ট্রাফিক মোড়ে একটি হোটেলের তিনটি আউটলেট রয়েছে। আউটলেটগুলি চালাতে মাসে ৫০টির বেশি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। বুধবার সেই হোটেলের কর্ণধার কমল ঘোষ বাজারে চারটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে মাত্র দুটি সিলিন্ডার পেয়েছেন। কাঠ কিংবা কয়লার উনুন জ্বালানোর মতো পরিকাঠামো নেই তাঁর হোটেলে। ফলে বেজায় সমস্যায় পড়েছেন তিনি। কমল বলেন, ‘রান্নার গ্যাসের অভাবে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন যেসব রান্না হয় সেগুলি অনেকটা কাটছাঁট করেছি। বিকেলের পর তরকা, রুটি তৈরি হত, তা বন্ধ রাখা হয়েছে।’

শহরের আরেক হোটেল মালিক সুদীপ দত্ত গ্যাসের অভাবে তাঁর একটি আউটলেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। সুদীপের কথায়, ‘সেভাবে গ্যাসের আকাল দেখা দিয়েছে তাতে একটি কাউন্টার বন্ধ করা ছাড়া উপায় ছিল না। বাকি কাউন্টারগুলিতে রান্না চালানোর জন্য ডিজেলের ওভেনের খোঁজ চালাচ্ছি।’

ময়নাগুড়ি টেকাটুলি বাইপাসের ধারে এক রেস্তোরাঁর মালিক গোবিন্দ ভক্ত বলেন, ‘আগামী দুই-তিনদিনের গ্যাস মজুত রয়েছে। তার পরে কীভাবে রান্না হবে জানি না।’

ময়নাগুড়ি হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সংগঠনের সভাপতি রাজু সাহার বক্তব্য, ‘হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে প্রচুর কর্মীর রুজিরুটি জড়িয়ে রয়েছে। অবিলম্বে পরিস্থিতির দিকে প্রশাসন নজর না দিলে এই অঞ্চলের হোটেলগুলি কার্যত অচল হয়ে পড়বে।’

সার্বিক পরিস্থিতিতে আশার আলো দেখছেন রান্নার খড়ি ব্যবসায়ীরা। ময়নাগুড়ি ইন্দিরা মোড় লাগোয়া একটি খড়ি বিক্রির দোকানে গিয়ে দেখা গেল ময়নাগুড়ি হঠাৎ কলোনি এলাকার বাসিন্দা পেশায় টোটোচালক সুনীলচন্দ্র রায় বাড়িতে রান্নার জন্য খড়ি কিনছেন। সুনীল বলেন, ‘গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে গত দু’দিন ধরে বাড়িতে এক বেলা উনুনে এক বেলা গ্যাসে রান্না হচ্ছে। সেকারণে খড়ি কিনতে এসেছি।’ খড়ি ব্যবসায়ী দীপকচন্দ্র সরকারের কথায়, ‘রান্নার গ্যাসের জোগানে ঘাটতি হলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ খড়ি কেনার দিকে ঝুঁকবেন। তাই আমাদের ব্যবসা ভালো হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *