উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফ্যাশন দুনিয়ায় বয়সের কোনো সীমা নেই, তা আবারও প্রমাণ করল লস অ্যাঞ্জেলেসের ১০ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ম্যাক্স আলেকজান্ডার (Max Alexander)। বিশ্বখ্যাত ‘প্যারিস ফ্যাশন উইক’-এ কনিষ্ঠতম ডিজাইনার হিসেবে ডেবিউ করে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে এই খুদে পোশাকশিল্পী। মাত্র চার বছর বয়স থেকে সুঁচ-সুতো আর কাপড়ের সাথে সখ্যতা শুরু হওয়া এই বালকের কল্পনাশক্তি দেখে থমকে গেছেন বাঘা বাঘা ফ্যাশন বোদ্ধারা।
স্থায়িত্ব ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন
প্যারিসের র্যাম্পে ম্যাক্সের কালেকশনটি কেবল সুন্দরই ছিল না, তার প্রতিটি পোশাকে ছিল পরিবেশ সচেতনতার বার্তা। ‘সাসটেইনেবিলিটি’ বা টেকসই ফ্যাশনকে মূলমন্ত্র করে সে তৈরি করেছে দুর্দান্ত সব কাউচার (Couture) পিস। বাতিল হওয়া বা ফেলে দেওয়া কাপড়কে কীভাবে রানওয়ে-যোগ্য পোশাকে রূপান্তর করা যায়, তাই করে দেখিয়েছে এই খুদে প্রতিভা।
অসাধারণ কিছু সৃষ্টি: শাড়ি থেকে প্যারাশুট
ম্যাক্সের ইনস্টাগ্রাম পেজে তার কাজের ঝলক দেখে মুগ্ধ নেটিজেনরা। তার প্রদর্শিত সংগ্রহের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক:
• ভারতীয় শাড়ি: একটি পুরনো ভারতীয় শাড়িকে সে রূপ দিয়েছে চমৎকার ‘হাই-লো’ ড্রেসে।
• বিয়ের পোশাকের রূপান্তর: আশির দশকের একটি পুরনো ওয়েডিং ড্রেসকে সে নতুন আঙ্গিকে সাজিয়েছে।
• প্যারাশুট ও ব্যাগ: তার প্রদর্শনীর গ্র্যান্ড ফিনালেতে ছিল একটি ‘হার্মিস’ (Hermes) ব্যাগের করসেট এবং পুরনো ফরাসি সামরিক প্যারাশুট দিয়ে তৈরি একটি নাটকীয় পোশাক।
• রিসাইকেলড মেটেরিয়াল: ২৮টি ‘ফ্রি পিপল’ ব্যাগ দিয়ে তৈরি পোলকা-ডট ফ্রিল ড্রেস এবং ২০ গজ ডেডস্টক শিফনের ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুপ্রেরণা ও পথচলা
২০২০ সালে মাত্র চার বছর বয়সেই নিজেকে ‘ড্রেসমেকার’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল ম্যাক্স। ২০২১ সালে সে নিজের লেবেল চালু করে। ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ, ইয়ায়োই কুসামা এবং ফ্রিদা কাহলোর মতো বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের কাজ থেকে সে অনুপ্রেরণা পায়। নিজের বোনকে ‘মিউজ’ হিসেবে ব্যবহার করে সে তার প্রথম দিকের পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো শুরু করেছিল।
পরিবেশবান্ধব ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ
ম্যাক্স তার কাজে উদ্ভিজ্জ বায়োডিগ্রেডেবল ফাইবার, ইতালীয় উদ্বৃত্ত সিল্ক এবং রিঙ্কেল-ফ্রি চিরিমেন সিল্ক ব্যবহার করেছে। টিফানির ব্যাগ থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত কাপড়—সবকিছুই তার হাতের ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে মহামূল্যবান পোশাক। মায়ের পূর্ণ সমর্থনে বড় হওয়া এই খুদে শিল্পী প্রমাণ করেছে যে, প্রতিভা থাকলে আকাশের সীমানাও ছোঁয়া সম্ভব।
