উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঠিক কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, একটি ‘সাদা চামড়ার দেশ’ বাংলাদেশ ও মায়ানমারের একাংশ কেটে একটি পৃথক ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্র করছে। তখন অনেকে বিষয়টিকে রাজনৈতিক স্টান্ট বললেও, ২০২৬-এ এসে পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে মার্কিন ভাড়াটে সেনা ম্যাথু ভ্যানডাইক এবং ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে এনআইএ (NIA) গ্রেপ্তার (Matthew VanDyke arrest) করার পর সেই তত্ত্বই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) জানিয়েছে, লিবিয়া ও সিরিয়ার যুদ্ধে অভিজ্ঞ মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইক পর্যটক ভিসায় মিজোরামে প্রবেশ করেছিলেন। অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে (EAGs) ড্রোন সরবরাহ এবং উন্নত সমরাস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞ ব্রহ্ম চেলানির মতে, এটি আসলে আমেরিকার একটি ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা ছায়াযুদ্ধ, যা এবার ভারতের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।
কে এই ম্যাথু ভ্যানডাইক?
গ্রেপ্তার হওয়া মূল অভিযুক্ত ভ্যানডাইক ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ (SOLI) নামক একটি নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। এই সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দেয়। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভ্যানডাইক ভারতে ‘খ্রিস্টান নিপীড়ন’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন, যা ফক্স নিউজে প্রচারিত হয়। তাঁর এই ধর্মীয় সংশ্লিষ্টতা এবং বর্তমানে মায়ানমারের বিদ্রোহী দমনে সক্রিয়তা হাসিনাকে দেওয়া সেই ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গঠনের প্রস্তাবের সঙ্গেই যুক্ত বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
মিজোরাম মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ ও গোয়েন্দা তথ্য
মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমাও বিধানসভায় জানিয়েছিলেন যে, ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যোদ্ধারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারের চিন স্টেটে প্রবেশ করছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪-এর শেষ ছয় মাসে আইজলে প্রায় ২,০০০ বিদেশি পর্যটক এলেও তাঁদের খুব কমই রাস্তায় দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এদের বড় অংশই ভাড়াটে সৈন্য হিসেবে বিদ্রোহীদের সাহায্য করতে সেখানে অবস্থান করছে।
