রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি: বালি পাচারে কাটমানির ভাগ নিতে বিজেপি নেতাকে দলে টানতে টোপ তৃণমূল কংগ্রেসের। অন্যথায় সমস্ত অবৈধ কারবার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি। এমনই অভিযোগ উঠেছে মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাওয়াখালিতে (Matigara)। কখনও মেচি নদীর, কখনও আবার বালাসনের পাথরঘাটা ঘাটের রয়্যালটি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে বালি পাচার চলছে। অভিযোগ, স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির স্বামী তথা বিজেপি নেতা কারবারের মূলে। তাঁর মদতেই প্রতি রাতে লক্ষ লক্ষ টাকার বালি পাচার হচ্ছে। এখন এই কারবারের কাটমানির ভাগ চেয়েছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা। পাশাপাশি ওই জনপ্রতিনিধিকে দলবদলের জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে, ওই বিজেপি নেতা দলের কাজকর্ম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। যদিও বন্ধ হয়নি বালি পাচার। মাটিগাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের (১) প্রধান কৃষ্ণ সরকার বলছেন, ‘ওই বিজেপি নেতা তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন বলে শুনেছি। কিন্তু নিশ্চিত কোনও খবর আমার কাছে নেই। বালি পাচার বা অন্য কোনও বেআইনি কাজে আমাদের সমর্থন নেই।’
শহর লাগোয়া মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাওয়াখালির বালাসন নদীর নিমতলা ঘাটে প্রশাসনিক অনুমতি রয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকমাস ধরে এই ঘাটের কোনও বৈধ লিজ হোল্ডার নেই। অথচ এখান থেকে বালি তুলে শতাধিক ডাম্পার এবং ট্র্যাক্টর-ট্রলিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা এবং বিহারে পাচার হচ্ছে। এর আগে খড়িবাড়ি ব্লকের ভারত-নেপাল সীমান্তের মেচি নদীর ঘাটের রয়্যালটি দেখিয়ে এখান থেকে বালি পাচার হচ্ছিল। এখন পাথরঘাটার একটি ঘাটের রয়্যালটি দেখানো হচ্ছে। অভিযোগ, এই পাচারে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের একাংশ জড়িত। ‘ভেট’ মেলায় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর, পুলিশ-প্রশাসন নীরব। হঠাৎ ধরা পড়লে কখনও মেচি, কখনও আবার পাথরঘাটার রয়্যালটি দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বালি নিমতলা ঘাট থেকে ওঠেনি, যেখানকার রয়্যালটি সেখান থেকেই নিয়ে আসা হয়েছে।
এই বালি পাচারের ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির স্বামী ও বিজেপির মণ্ডল কমিটির নেতার বিরুদ্ধে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা প্রথমে ভেবেছিলেন, ওপরতলার মদতপুষ্ট কেউ এই বালি সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা যখন জানতে পারেন ওই বিজেপি নেতা মূলে রয়েছেন, তখন থেকেই চাপ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, প্রথমে মোটা কাটমানি দাবি করা হয়। এরপর ওই নেতাকে তৃণমূলে টানতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মাটিগাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক পদাধিকারী ও তৃণমূল নেতার সাফ কথা, ‘হয় দলে আসুন, অন্যথায় কারবার বন্ধ করার পাশাপাশি আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।’ দলের থেকে টাকার ‘দর’ বেশি। তাই ওই বিজেপি নেতা জার্সি বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর। বিজেপির মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ৪ নম্বর মণ্ডল সভাপতি প্রদীপ দেবনাথের বক্তব্য, ‘ওই নেতা আমাদের দলে থাকলেও কিছুদিন ধরে সক্রিয়ভাবে দলের কোনও কর্মসূচিতে আসছেন না। পার্টি অফিসেও আসেন না। শুনেছি, স্ত্রীকে নিয়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দেবেন। ওই নেতা বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত জানার পরেই সরাসরি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলাম। কিন্তু তিনি যুক্ত নন বলে দাবি করেছেন।’ ওই বিজেপি নেতার বক্তব্য, ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। বালি পাচার বন্ধ করতে আমিও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছি।’
