রণজিৎ ঘোষ, শিবমন্দির: ধুলোয় ব্যাহত জনজীবন! পরিস্থিতি এমন যে মাটিগাড়া (Matigara) ব্লকের শিবমন্দিরের শিসাবাড়ি, চৈতন্যপুর এলাকায় হালের মাথা থেকে শিসাবাড়ি হয়ে বালাসন নদী পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে থাকা সমস্ত দোকান, বাজার বন্ধ। ধুলো থেকে বাঁচতে বাড়ির দরজা, জানলা সব বন্ধ করে রাখছেন স্থানীয়রা। এমনকি ধুলো আটকাতে অনেকেই ত্রিপল দিয়ে জানলা ঢেকে দিয়েছেন। তার পরেও ধুলো থেকে রেহাই মিলছে না। সমস্যা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে এলাকার বেশিরভাগ মানুষ সর্দিকাশির সমস্যায় ভুগছেন। ওই রাস্তায় টোল প্লাজা বসিয়ে প্রতিদিন গাড়ি থেকে টাকা তোলা হলেও প্রশাসনের তরফে সমস্যা সমাধানে কোনও উদ্যোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই রাস্তা দিয়ে লরি, ডাম্পার সহ অন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিয়ে মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি সুশান্ত ঘোষের বক্তব্য, ‘এলাকার বাসিন্দারা এই সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি মহকুমা পরিষদকে জানিয়েছি।’ যদিও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলছেন, ‘এমন ঘটনার কথা জানা ছিল না। এলাকার মানুষ যাতে সুস্থভাবে বসবাস করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে টোল প্লাজার দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সি সেটা করবে। ঠিক কী হয়েছে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
মাটিগাড়া বিডিও অফিসের পাশ দিয়ে পেভার্স ব্লকের রাস্তা যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখান থেকে বালাসন নদী পর্যন্ত গোটা রাস্তাটাই কাঁচা। এই রাস্তা হয়ে বালাসন থেকে দিনরাত বালি, পাথরবোঝাই শয়ে-শয়ে ডাম্পার, ট্র্যাক্টর-ট্রলি সহ অন্য যানবাহন চলাচল করলেও রাস্তা সংস্কার করা হয় না বলে অভিযোগ। চৈতন্যপুরে রাস্তার পাশে মুখে রুমাল ঢাকা দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন শান্তিবালা বর্মন, কৃষ্ণ বর্মন সহ অন্যরা। শান্তিবালা বললেন, ‘দিনরাত রাস্তা দিয়ে বড় বড় গাড়ি বালি-পাথর নিয়ে যাতায়াত করছে। এর ফলে রাস্তার ধুলোয় আমরা জেরবার হয়ে গিয়েছি। ঘরে খেতে বসলেও ধুলো, রাতে ঘুমোব সেখানেও ধুলো উড়ছে। দরজা, জানলা বন্ধ করেও খুব বেশি লাভ হচ্ছে না।’
কিছুটা এগিয়েই শিসাবাড়ি বাজার। সেখানকার বাসিন্দা গজেন বর্মনের কথায়, ‘এখানে সবাই ফের মাস্ক পরতে শুরু করেছেন। কয়েকমাস ধরে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে বাড়িতেও মাস্ক পরে না থাকলে প্রচণ্ড সর্দি ও কাশি হচ্ছে। এলাকায় অনেকেই শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কবে পরিস্থিতি বদলাবে সেই আশায় রয়েছি।’
ধুলোর ফলে এলাকায় ব্যবসাও কার্যত বন্ধ। ধুলো সামলাতে না পেরে চৈতন্যপুর, শিসাবাড়িতে অধিকাংশ মুদি এবং ফাস্ট ফুডের দোকান বন্ধ রয়েছে। রাস্তার পাশে প্রতিদিন বিকেলে ডিম, ঘুগনির দোকান বসাতেন মনোজ বর্মন। তিনি বললেন, ‘প্রতিদিন রাস্তা থেকে দোকানে ধুলো ঢুকছে। এই দোকানে ডিম, ঘুগনি, চপ ভেজে বিক্রি করলে কে কিনবে?’ তিনি জানান, দোকানের সামনের রাস্তায় জল দিয়েও কাজ কিছুই হয় না। বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে।
এই রাস্তা হয়ে বালি-পাথর বহনকারী গাড়িগুলি থেকে টোল সংগ্রহ করছে মহকুমা পরিষদ। ডাম্পার প্রতি ১৫০ টাকা এবং ট্র্যাক্টর সহ অন্য গাড়ি থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, ধুলো থেকে রক্ষা পেতে টোল সংগ্রহকারী এজেন্সিকে দু’বেলা রাস্তায় জল দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউ কথা শুনছে না, বরং বালি-পাথরের গাড়ির সংখ্যা দিন-দিন বাড়ছে। যদিও দায় এড়িয়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি।
