মাথাভাঙ্গা: ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে উত্তরবঙ্গে। বৃহস্পতিবার ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মাধ্যমে শীতলকুচি ও মাথাভাঙ্গা বিধানসভা এলাকায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াল বিজেপি। একদিকে গোলকগঞ্জের সভা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে সুর চড়ালেন, অন্যদিকে মাথাভাঙ্গায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক তাঁর ‘মিনি বাংলাদেশ’ মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন।
শীতলকুচির গোলকগঞ্জের জনসভায় জিতিন প্রসাদ স্বীকার করে নেন যে, ২০২১-এর কিছু ভুল ত্রুটির কারণে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তবে তাঁর দাবি, “সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে দল। ২০২৬-এ বিজেপির ক্ষমতায় আসা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।” তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ভোট ব্যাংকের স্বার্থে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির জন্য জমি দেয়নি। তবে বিজেপি ক্ষমতায় এসে অনুপ্রবেশকারীদের এখান থেকে বিতাড়িত করবে। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার থাকবে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে শীতলকুচি বিধানসভা এলাকায় হাসানের ঘাটে যেমন সেতু তৈরি হবে, তেমনি খলিসামারিতে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।”
মাথাভাঙ্গার সভায় নিশীথ প্রামাণিক হিন্দু ভোটব্যাংককে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান। আরজি কর পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবর্তনের বিকল্প নেই। নিজের বিতর্কিত ‘মিনি বাংলাদেশ’ মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ক্রিকেটে পাকিস্তান জিতলে যারা বাজি ফোটায়, তাদের মিনি বাংলাদেশ বলায় আমি ক্ষমা চাইছি। আগামীতে এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে হলে, যে দেশকে আপনারা ভালোবাসেন সেই পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করব।”
এদিন সকালেই তৃণমূল যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শিকারপুর ও শীতলকুচি থেকে দুটি বিশাল বাইক মিছিল বের করা হয়। তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদেই এই মিছিল। তবে বিজেপির পালটা অভিযোগ, তাদের ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’য় বাধা দিতে এবং কর্মীদের মধ্যে ভীতি ছড়াতেই এই বাইক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
