Mamata vs ECI | ‘বাংলাকে টার্গেট করছে নির্বাচন কমিশন’, ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র অভিযোগ মমতার

Mamata vs ECI | ‘বাংলাকে টার্গেট করছে নির্বাচন কমিশন’, ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র অভিযোগ মমতার

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে না হতেই নির্বাচন কমিশনের (ECI) ভূমিকা নিয়ে রণংদেহি মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata vs ECI)। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, নজিরবিহীনভাবে বাংলাকে নিশানা করছে কমিশন। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে ডিজিপি— প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক রদবদলকে ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ এবং ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী।

প্রশাসনিক রদবদল ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এডিজি, আইজি এবং জেলাশাসক স্তরেও যেভাবে বদলি করা হয়েছে, তা প্রশাসনিক ইতিহাসের বিরল ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক রংয়ে রাঙানো হচ্ছে, যা সরাসরি সংবিধানের মূল চেতনার ওপর আঘাত। ইতিমধ্যেই তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

‘পঙ্গু করার চেষ্টা হচ্ছে বাংলার প্রশাসনকে’

মমতার অভিযোগ, আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার আধিকারিকদের বেছে বেছে রাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন ভোটার তালিকা নিয়ে। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না করে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করা হচ্ছে।

কমিশনের ‘দ্বিচারিতা’ ও বিজেপির ওপর আক্রমণ

নির্বাচন কমিশনের কাজের মধ্যে স্ববিরোধিতা খুঁজে পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, একদিকে আধিকারিকদের রাজ্য থেকে সরানো হচ্ছে, আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের অন্য রাজ্যে ‘নির্বাচনি পর্যবেক্ষক’ হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিজেপির প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে মমতা বলেন, “কেন স্বাধীনতার এত বছর পরেও নাগরিকদের বারবার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে?”

পরিশেষে, রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভয় দেখিয়ে বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, কমিশনের বিরুদ্ধে এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বুঝিয়ে দিলেন, লড়াই হবে এক ইঞ্চি জমি না ছেড়েই।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *