উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট বাজার আগেই নবান্ন বনাম নির্বাচন কমিশনের স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে। একদিকে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাফ জানিয়েছেন, অনিয়ম করলে অফিসারদের বিরুদ্ধে ‘শক্ত সে শক্ত কারওয়াই’ (কঠোরতম ব্যবস্থা) হবে, ঠিক তার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা মেজাজে অবতীর্ণ হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমলাদের উদ্দেশে তাঁর সোজাসাপ্টা বার্তা— “ছাড়ুন তো মশাই শক্ত! কেউ ভয় পাবেন না।”
বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে পাশে নিয়ে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের মনোবল বাড়াতে নির্ভয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট: কমিশনের ‘চাবুক’
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই কলকাতায় আসে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ক্লাস নেন জ্ঞানেশ কুমার। বিরোধীদের তোলা ‘দলদাস’ আমলা বা ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ পুলিশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিশনার বারবার হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। জনমানসে আস্থা ফেরাতে কমিশনের এই ‘কঠোর’ অবস্থানকে ঘিরে যখন প্রশাসনের অন্দরে গুঞ্জন তুঙ্গে, তখনই আসরে নামলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
মমতার ‘বরাভয়’ ও পাল্টা চাল
নবান্নের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আমলাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের সঙ্গে মিটিংয়ে কন্টিনিউয়াস ভয় দেখানো হয়েছে। ভোট আসছে, এসব ওরা বেশি করে করবে। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন, কেউ কিছু করতে পারবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিরাচরিত ‘ধমকালে-চমকাই না’ মেজাজেই বুঝিয়ে দিলেন, অফিসারদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা তিনি সহজভাবে নিচ্ছেন না।
কেন এই দড়ি টানাটানি?
বিরোধীদের (বিজেপি-বাম-কংগ্রেস) দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বাংলার এক শ্রেণির পুলিশ সুপার ও আমলা শাসকদলের ক্যাডারের মতো কাজ করেন। এসআইআর পর্ব থেকেই বিএলও-দের সতর্ক করেছিল কমিশন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান চিরকালই তাঁর অফিসারদের পাশে। এর আগে বিএলও-দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত পেলেও তিনি তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই এই ‘হুঁশিয়ারি’ আর ‘বরাভয়ের’ খেলা বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী কয়েক মাস বাংলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক লড়াই কোন স্তরে পৌঁছাতে চলেছে। এখন দেখার, কমিশনের ‘শক্ত’ পদক্ষেপ না কি মুখ্যমন্ত্রীর ‘নির্ভয়’ বার্তা— কার পাল্লা ভারী হয়।
