উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০০৮ সালে হওয়া মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় (Malegaon Blast Case Verdict) অভিযুক্ত প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর (Former BJP MP Pragya Singh Thakur) সহ ৭ জনকেই বেকসুর খালাস করা হয়েছে। ১৭ বছর পর ঘোষণা হয়েছে এই মামলার রায়। আর রায় ঘোষণা হতেই সাধ্বী প্রজ্ঞার বক্তব্য, ‘আজ হিন্দুত্বের জয় হল। গেরুয়াকে যারা কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে, ঈশ্বর তাদের শাস্তি দেবেন।’
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের কথায়, তাঁর নাম ভুলভাবে মামলায় জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁকে অসম্মানিত হতে হয়েছে। তিনি যে দোষী নন, সেকথাও আদালতে বলেন প্রজ্ঞা। সূত্রের খবর, আদালতে কথা বলার সময় কেঁদে ফেলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই বলেছি যে যাদের তদন্তের জন্য ডাকা হয়, তাদের পিছনে একটি ভিত্তি থাকা উচিত। তারা আমাকে তদন্তের জন্য ডেকেছিল। গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নির্যাতন করা হয়েছিল। এটি আমার পুরো জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। আমি একজন ঋষির জীবনযাপন করছিলাম। কিন্তু আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। কেউ স্বেচ্ছায় আমাদের পাশে দাঁড়ায়নি। আমি বেঁচে আছি কারণ আমি একজন সন্ন্যাসী। তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভগবানকে অপমান করেছে। আজ হিন্দুত্ব জিতেছে। ঈশ্বর তাদের শাস্তি দেবেন যারা দোষী। তবে, যারা ভারত এবং ভগবানকে অপমান করেছে তারা আপনার দ্বারা ভুল প্রমাণিত হয়নি।’
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) মালেগাঁও (Malegaon Blast Case) শহরে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ৬ জন। ঘটনায় আহত হয়েছিল শতাধিক। তদন্তে উঠে এসেছিল, মালেগাঁওয়ের এক মসজিদ লাগোয়া কবরস্থানে একটি মোটরসাইকেলে দু’টি বোমা রাখা ছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণটি হয়। এই ঘটনার নেপথ্যে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রয়েছে বলে জানা যায়। আর মূল অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছিল ভুপালের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিতের নাম। মোট ৭ জন এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছিল।
এই ঘটনায় বৃহ্স্পতিবার আদালত জানিয়েছে, কেবল সন্দেহের কারণে মামলাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এমনকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ ও তদন্তকারীরা। এদিন বিচারক এ কে লাহোটি বলেন, ‘সমাজের জন্য এটি একটি গুরুতর ঘটনা। কিন্তু আদালত কেবল নৈতিক ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে না।’ সেই সঙ্গে আদালত এও জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রসাদ পুরোহিত আরডিএক্স এনে বোমা তৈরি করেছিলেন এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি যে মোটরসাইকেলে বোমা রাখা ছিল, সেটি প্রজ্ঞার নামে নথিভুক্ত ছিল বলে জানিয়েছিল তদন্তকারীরা। কিন্তু সেটি যে প্রজ্ঞার তা প্রমাণ করা যায়নি বলে জানিয়েছে আদালত।
