হরিশ্চন্দ্রপুর: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই মালদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৪৬ নম্বর হরিশ্চন্দ্রপুর আসনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল চওড়া হলো (Malda TMC Battle)। মন্ত্রী তজমুল হোসেনের (Tajmul Hossain) বিরুদ্ধে এবার সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন দলেরই কিষাণ খেতমজুর সেলের ব্লক সভাপতি মকরম আলী (Makram Ali)। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ ও একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে এলাকায় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মকরম আলী কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মন্ত্রীকে। তাঁর অভিযোগ, তজমুল হোসেন নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দল চালাচ্ছেন এবং দীর্ঘদিনের কর্মীদের গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি আরও দাবি করেন, “মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কোটা থেকে যে সমস্ত চাকরি হয়েছে, তার সবকটিতেই স্বজনপোষণ করা হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কোনও উন্নয়ন হয়নি।” মকরম আলীর সাফ কথা, আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী পরিবর্তন না করলে দলের ফলাফল অত্যন্ত খারাপ হবে।
হরিশ্চন্দ্রপুরে মন্ত্রীবিরোধী শিবিরের পাল্লা ক্রমশ ভারী হচ্ছে। ইতিপূর্বেই জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান, ব্লক সভানেত্রী মর্জিনা খাতুন প্রকাশ্যে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। এদিন মকরম আলীর সুরেই সুর মিলিয়েছেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ দলের নজরে আছে এবং কোনও দুর্নীতিই বরদাস্ত করা হবে না।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী তজমুল হোসেন। তিনি পালটা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যাঁরা এ ধরনের কথা বলছেন, তাঁদের কোনও ভিত্তি নেই। মকরম আলী নিজের বুথেই ভোট পাননি। অথচ আমিই তাঁকে পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা করেছিলাম।” মন্ত্রীর দাবি, ভিত্তিহীন কুৎসা করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূলের এই গোষ্ঠী কোন্দল নতুন নয়। তবে ভোটের আগে যেভাবে একের পর এক ব্লক স্তরের নেতা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন, তাতে যথেষ্ট অস্বস্তিতে জেলা নেতৃত্ব। এই অন্তর্দ্বন্দ্বের সুবিধা বিরোধীরা কতটা নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
