মালবাজার: সড়ক পথে মালবাজারের সঙ্গে আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, অসম সহ জলপাইগুড়ি যাতায়াতে অন্যতম ভরসা মাল ব্রিজ। কিন্তু এই ব্রিজে পিলারের নীচের দিকে থাকা গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে গিয়েছে। ওই গার্ডওয়াল দ্রুত মেরামত না হলে সামনের বর্ষায় পিলারে ফাটল তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। সেক্ষেত্রে ব্রিজে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জলসম্পদ দপ্তরের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার নির্মল সাহার বক্তব্য, ‘দ্রুত ওই সমস্যার সুরাহা প্রয়োজন। পিলার সুরক্ষায় যে গার্ডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। সেই গার্ডওয়াল ভেঙে গেলে জলের ধাক্কায় পিলারের ব্যাপক ক্ষতি হবে। আগামী বর্ষার আগেই সেই গার্ডওয়ালের মেরামতি জরুরি। নয়তো বালাসন ব্রিজ যেভাবে বসে গিয়েছিল একই পরিস্থিতি হতে পারে মাল ব্রিজের ক্ষেত্রে।’
এই ব্রিজ দিয়ে প্রচুর গাড়ি যাতায়াত করে। কোনও কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে ওই ব্রিজের বিকল্প পথ হিসেবে কাঠামবাড়ি ফরেস্ট বা গজলডোবা হয়ে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার যাতায়াত করা যায়। তাই ব্রিজের ক্ষতি হলে যান চলাচলে সমস্যা হতে পারে। সেই আশঙ্কাতেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মাল শহরের ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ।
মাল শহরের মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বাপ্পা ঘোষ বলেন, ‘অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এই ব্রিজকে কেন্দ্র করেই আমাদের চলাচল। এটা অচল হলে আমাদের কাজকর্মও বড় ধাক্কা খাবে।’
মাল শহরের মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে মোহিত শিকদার জানালেন, ওই ব্রিজ দেখভালের দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের উচিত বাঁধের ভাঙা অংশ সার্ভে করা। বর্ষা আসতে খুব বেশি দেরি নেই, অবিলম্বে মেরামতির উদ্যোগ নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সেচ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন তাঁদের এক্তিয়ারের মধ্যে ওই কাজ পড়ে না। পূর্ত দপ্তর বিষয়টি দেখে। এই বিষয়ে এনএইচ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কিংশুক শ্যামলের বক্তব্য, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
বর্ষায় মাল নদীর রূপ ভয়ংকর হয়ে ওঠে। হড়পায় একাধিকবার ক্ষতি হয়েছে। তবে ২০২২ সালে দশমীর দিনের মর্মান্তিক ঘটনা আজও সকলের স্মৃতিতে তাজা। প্রতি বর্ষায় মাল নদীতে যে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস নেমে আসে তাতে ব্রিজের পিলারে ব্যাপক ধাক্কা লাগে। সেই ধাক্কা থেকে পিলারকে রক্ষা করতে গার্ডওয়াল মেরামতি খুবই জরুরি।
