সুশান্ত ঘোষ, মালবাজার: মালবাজার (Malbazar) শহরের প্রাণ হল পম্পা সিনেমা হল থেকে রাজাপাড়া পর্যন্ত বাজার রোড। শহর ও আশপাশের গ্রামীণ এলাকার জন্য এই রাস্তাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে এই রাস্তাটি চরম সমস্যার সম্মুখীন। অবৈধ পার্কিং, যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে টোটো থেকে যাত্রী নামানো বা ওঠানোর জন্য রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। ফলে প্রতিদিন ওই রাস্তায় যানজটের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মাঝেমধ্যে ছোট ছোট দুর্ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে যাওয়ার সময় রোগী ও রোগীর পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। ফলে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
এই প্রসঙ্গে পুরসভার বাজার কমিটির কনভেনার সরিতা গিরি বলেন, ‘শীঘ্র রাস্তাটি প্রশস্ত করা হবে। এছাড়া ডাকবাংলো এলাকায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।’
পশ্চিম ডুয়ার্সের সবচেয়ে বড় হাটটি প্রতি রবিবার এই এলাকাতে বসে। এছাড়াও বড়দিঘি ও তেসিমলা অঞ্চলের বাসিন্দারা স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন কাজে নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ধ্রুব বিশ্বাসের কথায়, ‘সবসময় আমার দোকানের সামনে দুই থেকে তিনটি টোটো লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকে। টোটোগুলিতে চালকও থাকে না। ফলে ক্রেতাদের দোকানে ঢুকতে অসুবিধা হয়। কোনও বড় গাড়ি ওই রাস্তায় ঢুকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।’ একই অভিযোগ করেন আরেক ব্যবসায়ী সঞ্জু রায়।
ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক কমল দত্ত বলেন, ‘পাঁচ বছর আগের থেকে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। ডাকবাংলো থেকে বাজার রোডের ফাঁকা এলাকায় হোলসেল মার্কেট এবং নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা তৈরি করা গেলে এলাকার যেমন উন্নতি হবে, তেমনি ব্যবসাও বৃদ্ধি পাবে।’ কিন্তু দাবি করা সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মতে, শুধু সাপ্তাহিক হাটের ওপর নির্ভর করে ব্যবসার উন্নতি করা সম্ভব নয়। শহরের অন্যতম প্রধান রাস্তাটি প্রশস্ত করা, সুনির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা, সিসিটিভি লাগানো, নিকাশিনালা সংস্কার করা এবং এলাকার পরিকাঠামো উন্নত করা প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের মতে, লোক দেখানো উন্নয়নের পরিবর্তে, আধুনিকভাবে পরিকল্পিত উন্নয়ন মাল শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
