অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: একের পর এক নির্মাণের ফলে দখল হতে বসেছে ময়নাগুড়ি (Mainaguri) কৃষক বাজারের ভেতরের জায়গা। সিমেন্টের খুঁটি, টিন দিয়ে তৈরি হয়েছে প্রচুর দোকান। এরকম চললে অচিরেই বাজারের একটা বড় অংশ দখলদারদের দখলে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সেইসব দোকান তৈরি করে বসা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, অস্থায়ীভাবে ওই দোকানগুলি তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেই সরিয়ে ফেলা হবে। এব্যাপারে ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, ‘এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব৷ স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলব।’
কৃষক বাজার চালু হওয়ার পর থেকে ময়নাগুড়ি নতুন বাজার এলাকায় ব্যবসা যথেষ্ট জমজমাট হয়েছে। বেড়েছে ব্যবসায়ীদের সংখ্যাও। আগে ময়নাগুড়ি নতুন বাজারে পাইকারি মাছের নিলামকেন্দ্র ছিল না। কিন্তু কৃষক বাজার হওয়ার পর সেখানে পাইকারি মাছের নিলাম শুরু হয়। মাছের নিলাম ছাড়াও সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলিতে অন্যান্য দোকানও বসে কৃষক বাজারের ভিতরে। ধীরে ধীরে ওই অংশে একের পর এক অস্থায়ী নির্মাণ শুরু হয়। বর্তমানে সিমেন্টের খুঁটি, বাঁশ, টিন লাগিয়ে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান তৈরি হয়েছে। এমনকি কৃষক বাজারে ঢোকার মুখেও গজিয়েছে একাধিক দোকান।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, রোদ-বৃষ্টিতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় এজন্য অস্থায়ীভাবে দোকানগুলি বসানো হয়েছে। তাঁদের আরও বক্তব্য, কৃষক বাজারের ভেতর এখনও প্রচুর ফাঁকা জায়গা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের তরফে কিছুদিন আগে বিডিও’র কাছে ওই ফাঁকা অংশে মাছ নিলামের জন্য শেড নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই শেড নির্মাণ হলেই অস্থায়ী সব দোকান ভেঙে ফেলা হবে দাবি ব্যবসায়ীদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাবসায়ী বলেন, ‘প্রশাসন থেকে আমাদের ব্যবসা করার অনুমতি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু দোকান নির্মাণের অনুমতি আমাদের কাছে নেই।’
নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সিদ্ধার্থ সরকার বলেন, ‘কৃষক বাজারের দক্ষিণদিকের অংশে অতি দ্রুত প্রশাসন থেকে শেড তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শেড নির্মাণ হয়ে গেলে সব ব্যবসায়ী ওই স্থানে চলে যাবেন। আমরা চাই দ্রুত শেডটি নির্মাণ করুক প্রশাসন।’
