উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নিজের হাতের তালুতে সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী হয়েছেন মহারাষ্ট্রের এক তরুণী চিকিৎসক (Maharashtra Physician Dying)। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। ওই চিকিৎসককে লাগাতার ধর্ষণ করেছে এক পুলিশ আধিকারিক। এমনটাই তিনি উল্লেখ করেছিলেন সুইসাইড নোটে। অবশেষে সেই অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ (Cop arrested)। অপর এক অভিযুক্তকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের একটি সরকারি হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় হোটেলে। তাঁর বাঁ হাতের তালুতে দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, পুলিশের এসআই গোপাল বাদনে তাঁকে চারবার ধর্ষণ করেছে। এছাড়াও নিজের বাড়িওয়ালার ছেলে পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত বাঙ্কার তাঁকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করেছে। এই ঘটনার পর থেকে দু’জনই পলাতক ছিল। তাদের খোঁজ চলছিল। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকেও সাসপেন্ড করা দেওয়া হয়েছিল। শনিবার সকালেই বাড়িওয়ালার ইঞ্জিনিয়ারপুত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় থানায় এসে আত্মসমর্পণ করার পর অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে, একটি চার পাতার চিঠিও উদ্ধার হয় বলে সূত্রের খবর। তা ‘সুইসাইড নোট’ বলে দাবি করা হচ্ছে। আরও দাবি করা হচ্ছে, ওই সুইসাইড নোটে উল্লেখ রয়েছে এক সাংসদের কথাও। তরুণীকে অনৈতিক কাজ করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন ওই সাংসদ, অভিযোগ রয়েছে এমনটাই। যদিও সাংসদের কী নাম, তার কোনও উল্লেখ নেই। পুলিশের তরফে এই ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
অন্যদিকে, গ্রামের বাড়িতে ওই তরুণী চিকিৎসকের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। মৃতার পরিবার দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ভুয়ো ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে ‘ফিট সার্টিফিকেট’ তৈরি করে দিত হত ওই চিকিৎসককে। এনিয়ে পুলিশকর্তাদের লিখিত অভিযোগ করলেও তিনি কোনও সুরাহা পাননি। ওই চিকিৎসকের দুই তুতো ভাই, যার নিজেও পেশায় চিকিৎসক, অভিযোগ করেছেন যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করার জন্য তাঁকে কেবল ময়নাতদন্তের ডিউটি দিত।
