শিলিগুড়ি: রাজ্যজুড়ে আজ থেকে শুরু হলো ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Examination 2026)। এ বছর পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯ লক্ষ ৭১ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় বসেছে। উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান শহর শিলিগুড়িতে পরীক্ষা যেন শান্তিপূর্ণ ও বিঘ্নহীনভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ (Siliguri Metropoliton Police)।
শিলিগুড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় মোট ৩৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে ১২ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। সকাল থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনে নামেন শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ইস্ট) রাকেশ সিং এবং ডিসিপি (ট্রাফিক)। ডিসিপি রাকেশ সিং জানান, সিলিগুড়িতে ‘কমপ্রিহেনসিভ পুলিশ অ্যারেঞ্জমেন্ট’ বা ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
ডিসিপি (ট্রাফিক) এদিন বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নেওয়া নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেন তিনি। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি তাঁর বিশেষ বার্তা ছিল— সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি ‘মানুষের মতো মানুষ’ করে গড়ে তোলার দিকেও নজর দিতে হবে।
পরীক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে পুলিশের পক্ষ থেকে শহরে একাধিক ‘হেল্প ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য ‘স্পেশাল এক্সাম মোবাইল’ এবং ‘মোটরসাইকেল মোবাইল টিম’ সর্বক্ষণ টহল দিচ্ছে। কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে সমস্যার মুখে পড়লে সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল লাইনে যোগাযোগ করলেই মিলছে সহায়তা।
শিলিগুড়ি সংলগ্ন চা-বাগান এলাকা থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের পথে যাতে কোনো বন্যপ্রাণী বা অন্য বিপত্তি না ঘটে, সে জন্য পুলিশ প্রশাসন বন দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
পরীক্ষার মাঝপথে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে যাতে বছরের শ্রম নষ্ট না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে পুলিশের কড়া নজরদারিতে আলাদা বসে পরীক্ষা দেওয়ার বিশেষ পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ছাত্রছাত্রীদের সহায়তায় শিলিগুড়ি পুলিশ এখন এক নির্ভরযোগ্য অভিভাবকের ভূমিকায়।
