Ladies trafficking | পিত্রুশ ‘নারী পাচারকারী’, বিস্মিত বাগান

Ladies trafficking | পিত্রুশ ‘নারী পাচারকারী’, বিস্মিত বাগান

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


শমিদীপ দত্ত রহিদুল ইসলাম, শিলিগুড়ি মেটেলি : পুলিশের ধারণা, কাউকে ১৫ হাজার টাকার, কাউকে আবার ১৯ হাজার টাকার কাজের টোপ দেওয়া হয়েছিল। রবিবার রাতে শিলিগুড়ির জংশন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৪ তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্তত এমনই সন্দেহ পুলিশের। জেরার মুখে ওই তরুণীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, এমন টোপ দিয়েই তামিলনাডুর একটি বস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানির নাম করে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ধৃত পিত্রুশ বেক, গৌতম রায় ও জয়শ্রী পাল। ওই তরুণীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ কিছু টাকাও নেওয়া হয়েছিল। এমনকি ওই তরুণীদের হাতে একটি করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারও দিয়েছিলেন পিত্রুশ।

পুলিশের এমন কথা শুনে সোমবার সকাল কার্যত স্তম্ভিত জুরন্তি চা বাগান। এখানেই বাড়ি পিত্রুশের। পরিবারের সকলে তো বটেই, বাগানের প্রতিবেশীরাও মানতে পারছেন না পিত্রুশ ‘নারী পাচারকারী’। বরং তাঁদের অনেকেই বলছেন, পিত্রুশের হাত ধরে শুধু এই বাগান নয়, আশপাশের বহু বাগানের ছেলেমেয়ে ভিনরাজ্যে কাজ করছেন। তাঁরা কেউই এমন কোনও অভিযোগ করেননি। নিয়মিতই তাঁরা বাড়িতে যাতায়াত করেন।

পুলিশের অবশ্য সন্দেহ অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়েই। সেখানে কোম্পানির তরফে গৌতমকে চিঠি পাঠিয়ে, ওই তরুণীদের নিয়োগের কথা বলা রয়েছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, তামিলনাডুর যে বস্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বাস্তবে তার অস্তিত্ব নেই। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই কোম্পানির ফোন নম্বরে ফোন করলেও কেউ ফোন ধরেননি। ফলে তামিলনাডুতে আদৌ ওই কোম্পানির অস্তিত্ব রয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে পুলিশের একটি বিশেষ টিম সেখানে যাবে।

পিত্রুশ ও গৌতমকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তুলে তিনদিনের পুলিশ হেপাজতে নিয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশ। জয়শ্রীর জেল হেপাজত হয়েছে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটান পুলিশের ডিসিপি (ওয়েস্ট) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলছেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন মিডিয়েটর নাকি ওরা সরাসরি মাস্টারমাইন্ড রয়েছে, এদের পিছনে কোনও বড় মাথা রয়েছে কিনা, সে সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। ৩৪ জন তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা ওই তরুণীদের সঙ্গেও দেখা করব। আমরা শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি।  স্থানীয় থানাগুলোর সঙ্গেও এ ব্যাপারে কথা বলা হবে।’

পুলিশ সূত্রে খবর, তামিলনাডুতে নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীদের অধিকাংশকেই পরিচারিকার কাজে লাগানো হত। তবে এর আগেও একাধিকবার গৌতম চা বাগান এলাকা থেকে তরুণীদের নিয়ে দক্ষিণ ভারতে গিয়েছেন। গৌতমের মা চাঁদনি রায় বলেন, ‘ছেলে আগেও এরকম তরুণীদের কাজ দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছে। ছেলে ওখানে কাজও করে। ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মেনে নিতে পারছি না।’

জুরন্তি চা বাগানের ডেলে লাইনে শ্রমিক আবাসে পিত্রুশের স্ত্রী, বাবা, দিদি, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী থাকেন। পিত্রুশের স্ত্রী জুরন্তি চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক। বাবা ও দিদি অসুস্থ। কিছুদিন আগে পিত্রুশও অসুস্থ ছিলেন। বাড়ির কেউই মুখ খুলছেন না এই ঘটনার পর। তবে, প্রতিবেশীরা জানান, ছোট থেকেই পিত্রুশ ভালো ছাত্র ছিলেন। জলপাইগুড়ি আনন্দ চন্দ্র কলেজে পড়াশোনা করেছেন। কলেজ পাশ করে তিনি রাঁচিতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ভালো পদে কাজ করতেন। ৫-৬ বছর আগে রাঁচির সেই কাজ ছেড়ে  চলে আসেন বাড়িতে। এরপরেই তিনি এই কাজ শুরু করেছেন। জুরন্তি চা বাগান থেকেও বহু ছেলে তার হাত ধরেই বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত। তাঁরা নিয়মিত বাড়িতেও আসেন।

সোমবার জুরন্তি চা বাগানে এক চায়ের দোকানে বসে এলাকার বাসিন্দা দিনেশ যোগী বলেন, ‘পিত্রুশ গ্রেপ্তার হয়েছে, এটা বিশ্বাসই করতে পারছি না। মাঝেমধ্যেই দোকানে এসে চা খেত। কথাবার্তা, আচার-ব্যবহার খুব ভালো। শান্ত প্রকৃতির ছেলে। এই কাজ সে করতে পারে তা বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

জুরন্তি বাগানের তৃণমূলের নেতা জোশেফ মুন্ডাও একই সুরে বলেন, ‘পিত্রুশ ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী ছিল। পাশাপাশি ফুটবলও ভালো খেলত। সোমবার উত্তরবঙ্গ সংবাদে শিলিগুড়িতে তার গ্রেপ্তার হওয়ার খবর পড়ে অবাক হয়ে যাই।’ জুরন্তি চা বাগানের বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের সদস্যা স্নোমিতা কালান্দি বলেন, ‘ছোট থেকে ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। এদিন ওর গ্রেপ্তার হওয়ার খবর শুনে আমি বিস্মিত।’

পুলিশ অবশ্য ওই সার্টিফিকেটে খুব একটা ভরসা করছে না। প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছে, মাস কয়েক আগে নাগরাকাটা, মেটেলি, কালচিনিতে কয়েকজন ব্যক্তি গিয়েছিলেন। তাঁরা ওই বস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানির লোক পরিচয় দিয়েই সেখানে গিয়ে চা বাগানের তরুণীদের ট্রেনিং দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই নাকি শর্টলিস্ট করে ওই ৩৪ জনকে চিহ্নিত করা হয়। যদিও ট্রেনিং চালানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়, সে সংক্রান্ত কোনও অনুমতিপত্র দেখাতে পারেনি গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *