বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: বয়স আশি পেরিয়েছে। লাঠি হাতে শরীর ঝুঁকেছে ঠিকই, কিন্তু নিজের অস্তিত্ব আর অধিকার প্রমাণের লড়াইয়ে আজ তিনি বড়ই ক্লান্ত। কিশোর বয়সে ঘর ছেড়ে বৃন্দাবনে চলে যাওয়া পামোর বর্মন, আজ নিজের জেলাতেই ‘কাগজের গেঁরোয়’ দিশেহারা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের গোপালগঞ্জ বিডিও অফিসে এসআইআর (SIR) হেয়ারিংকে কেন্দ্র করে পামোর বর্মনের এই ভোগান্তির ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পামোর বর্মনের জীবনের গল্প কোনও সিনেমার চেয়ে কম নয়। আধ্যাত্মিক টানে খুব অল্প বয়সেই গ্রাম ছেড়েছিলেন তিনি। সুদূর বৃন্দাবনে কাটিয়েছেন জীবনের দীর্ঘ সময়। প্রায় বাইশ-তেইশ বছর আগে নিজভূমে ফেরেন তিনি। নিজের নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত করলেও আসল সমস্যা তৈরি হয়েছে তাঁর পিতৃপরিচয় ও পারিবারিক শিকড় নিয়ে। পামোরবাবুর বাবা-মা ২০০২ সালের অনেক আগেই মারা গিয়েছেন, ফলে স্বাভাবিকভাবেই এসআইআর তালিকায় তাঁদের নাম নেই।
বুধবার সকাল থেকে গোপালগঞ্জ বিডিও অফিসে অন্যান্যদের মতো লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন পামোরবাবু। হাতে আঁকড়ে ধরেছিলেন ১৯৬২ সালের একটি পুরোনো জমির দলিল। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আধিকারিকদের কাছে গিয়েও সুরাহা মেলেনি। উল্টে নথিপত্র সংক্রান্ত নানা জটিলতায় সারাদিন তাঁকে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে হয়েছে। পামোরবাবুর আক্ষেপ, “দীর্ঘদিন বাইরে ছিলাম, ফিরে এসে সব নথি তৈরি করেছি। কিন্তু বাবা-মা অনেক আগে মারা যাওয়ায় এখন তালিকায় নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই বয়সে আর কত ঘুরব?”
একজন ৮১ বছরের বৃদ্ধের এই হয়রানিকে ‘অমানবিক’ বলে তোপ দেগেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা মফিজুদ্দিন মিঞা ও উজ্জ্বল বসাক। তাঁদের মতে, সরকারি প্রক্রিয়া অবশ্যই জরুরি, কিন্তু মানবিকতাকে উপেক্ষা করে একজন প্রবীণ মানুষকে এভাবে বিপাকে ফেলা কাম্য নয়।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস জানান, “নির্দিষ্ট টেবিলের এআইআরও বিষয়টি বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে ঘটনাটি আমি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখছি যাতে ওই বৃদ্ধকে আর হয়রানির শিকার হতে না হয়।”
