কুমারগঞ্জ: সরকারি টাকার শ্রাদ্ধ না কি অন্য কিছু? কুমারগঞ্জ ব্লকের (Kumarganj) বরাহার থেকে সুন্দরপুরের রাস্তায় তৈরি হওয়া এক নতুন বিতর্ক এখন জেলার চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। মাত্র দেড় বছর আগে রাজ্য সরকারের ‘পথশ্রী’ প্রকল্পে যে সিমেন্ট ঢালাই রাস্তার কাজ শেষ হয়েছিল, তা ভেঙে ফেলে এবার সেখানেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। একই রাস্তায় এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দু’টি ভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ নিয়ে উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ (Street Corruption)।
পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের অধীনে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ভুতকুড়ি মোড় থেকে গোপালগঞ্জ বাজার পর্যন্ত প্রায় দুই কিমি এই ঢালাই রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই রাস্তার বোর্ডটি নিয়ে বিবাদ ছিল। অভিযোগ উঠেছিল, বোর্ডে যে পঞ্চায়েত এলাকার নাম ছিল, কাজ হয়েছে অন্য এলাকায়। সেই রাজনৈতিক চাপানউতোর থিতিয়ে যাওয়ার আগেই এবার আস্ত রাস্তাটিই উধাও হওয়ার পথে।
এলাকাবাসী সবিস্ময়ে দেখছেন, পিএমজিএসওয়াই-এর অধীনে নতুন রাস্তা করার জন্য দেড় বছরের পুরনো ঢালাই রাস্তার চাঙর ভেঙে পাশের স্তূপ করে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি নতুন করে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ হওয়ারই ছিল, তবে দেড় বছর আগে সেখানে পথশ্রীর টাকা কেন খরচ করা হলো? কেনই বা ভালো অবস্থায় থাকা একটি রাস্তা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন?
এই ঘটনায় দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি। বিজেপির জেলা সম্পাদক রজত ঘোষ বলেন, “কাটমানি খাওয়ার জন্য তৃণমূল সব করতে পারে। ভালো রাস্তা ভেঙে নতুন কাজ শুরু করাই এর বড় প্রমাণ।” অন্যদিকে তৃণমূল নেতা আনিসুর মণ্ডল একে ‘পরিকল্পিত কাজ’ হিসেবেই দেখছেন। তাঁর দাবি, বাহিচা মোড় থেকে গৌরাঙ্গপুর পর্যন্ত বড় প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবেই এই রাস্তাটি তৈরি হচ্ছে।
গোটা বিষয়ে কুমারগঞ্জের বিডিও শ্রীবাস বিশ্বাস জানান, দু’টি কাজই পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের। তবে কেন এমনটা হলো, তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরই বলতে পারবে। তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
সরকারি কোষাগারের লক্ষ লক্ষ টাকার এমন অপচয় নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই ‘রাস্তা ভাঙা-গড়া’র খেলা বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে কুমারগঞ্জে।
