Kumarganj | এক হাতেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, ওডিশায় জাতীয় প্যারা অ্যাথলেটিক্সে বাংলার প্রতিনিধি গোবিন্দ

Kumarganj | এক হাতেই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন, ওডিশায় জাতীয় প্যারা অ্যাথলেটিক্সে বাংলার প্রতিনিধি গোবিন্দ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, কুমারগঞ্জ: জন্ম থেকে একটি হাত নেই। তার ওপর শৈশবেই পরিজন হারানো, দারিদ্র্য, সামাজিক বাধা— সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন কুমারগঞ্জের (Kumarganj) আঙিনা এলাকার তরুণ গোবিন্দ রায়। আর সেই লড়াইয়ের জোরেই এবার তিনি অংশ নিতে চলেছেন ন্যাশনাল প্যারা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায়। আগামী ১৭ থেকে ২১ মার্চ ওডিশায় ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ন্যাশনাল প্যারা অ্যাথলেটিক্স। সেই প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ লম্ফন (লং জাম্প) বিভাগে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন গোবিন্দ। বর্তমানে তিনি কলকাতার ‘সাই’ কেন্দ্রে এই প্রতিযোগিতার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১৬ মার্চ ভুবনেশ্বরের উদ্দেশে রওনা হবেন।

জন্মের মাত্র সাতদিন পরই বাবা তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর ফের জীবনে আঘাত নেমে আসে ১২ বছর বয়সে, যখন তিনি মাকেও হারান। এরপর দাদু-দিদার কাছে বেড়ে ওঠেন গোবিন্দ। এত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনও হার মানেননি। বরং নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করে খেলাধুলোর জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেছেন।

প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ইতিমধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন গোবিন্দ। গত বছর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘খেলো ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় লং জাম্প বিভাগে বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও তামিলনাডুর চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল প্যারা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিলেন। শুধু প্যারা অ্যাথলেটিক্সই নয়, প্যারা তাইকোন্ডোতেও রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল ছাপ। গত বছর জাতীয় তাইকোন্ডো প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন গোবিন্দ।

তবে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সংকট বারবার তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেড় বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্যারা তাইকোন্ডো প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য নির্বাচিত হয়েও শুধুমাত্র টাকার অভাবে সেখানে যেতে পারেননি তিনি।

তবে সেই ব্যর্থতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। গোবিন্দ বলেন, ‘আমি দেশের হয়ে প্যারা অলিম্পিকে খেলতে চাই। অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারিনি টাকার জন্য, কিন্তু এবার ভালো ফল করতেই হবে।’

দারিদ্র্য আর প্রতিকূলতাকে জয় করে কুমারগঞ্জের এই তরুণ আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। সমাজ ও প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে তিনি ভবিষ্যতে দেশের মুখ আরও উজ্জ্বল করবেন, এমনটাই আশা এলাকাবাসীর।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *