রাজা বন্দ্য়োপাধ্যায়, কুলটি ও আসানসোল: বসতবাড়ির ভেতর থেকে পরপর দুটি গুলির শব্দ, আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই লেলিহান শিখা। বৃহস্পতিবার রাতে আসানসোলের (Asansol) কুলটি (Kulti Homicide Case) থানার রামকৃষ্ণ পল্লী এলাকায় ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। বৃদ্ধা মাকে গুলি করে খুন করার পর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন ছেলে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (৭৬) ও রাজা মুখোপাধ্যায় (৫০)। বেশ কিছুদিন ধরেই ওই পরিবারে অশান্তি চরমে উঠেছিল। গত বুধবার অশান্তি এতটাই বাড়ে যে, ছেলে রাজা তাঁর বৃদ্ধ বাবা দয়াময় মুখোপাধ্যায়কে মারধর করেন। প্রাণের ভয়ে দয়াময়বাবু ওইদিনই কাশিপুরে মেয়ের বাড়িতে চলে যান। বাড়িতে ছিলেন কেবল মা ও ছেলে।
বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ প্রতিবেশীরা মুখোপাধ্যায় বাড়ি থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানলা দিয়ে আগুনের শিখা বেরোতে দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর দেওয়া হয় কুলটি থানায় (Kulti Police Station) ও দমকলে। দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলে বাড়ির ভেতর থেকে মা ও ছেলের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। তাঁদের আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজা মুখোপাধ্যায় একটি বেসরকারি কারখানায় বন্দুকধারী নিরাপত্তা রক্ষী বা গানম্যান হিসেবে কাজ করতেন। যদিও গত ৬ মাস ধরে তিনি বাড়িতেই থাকতেন। গানম্যান হওয়ার সুবাদে তাঁর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। বাবার দাবি অনুযায়ী, সেই বন্দুক দিয়েই মাকে খুন করে নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন রাজা।
শুক্রবার সকালে এলাকায় যান ওয়ার্ড কাউন্সিলার চৈতন্য মাজি। বৃদ্ধ বাবা দয়াময় মুখোপাধ্যায় কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ছেলে আমাকেও মেরেছিল, তাই পালিয়ে বেঁচেছিলাম। কিন্তু ও যে এমন কাণ্ড ঘটাবে ভাবিনি।” কুলটি থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ দুটির ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিবাদকেই মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর পিছনে অন্য কোনো মানসিক অবসাদ কাজ করছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
