উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলাকে নিয়ে আয়োজিত এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন শাসক দলের একাংশ বিদ্রোহী বিধায়ক ও সাংসদরা। মঙ্গলবার কোলাঘাটের (Kolaghat Assembly) বলাকা মঞ্চে আয়োজিত এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বেসুরো’ বলে পরিচিত শিউলি সাহা, জুন মালিয়া (June Malia) এবং দীপক অধিকারী (দেব)-এর (Dev) উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের এই প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের বিধায়ক ও সাংসদদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যা রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক সংস্কৃতির এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Shuvendu Adhikari) উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে তিন জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক (এসডিও), ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা অংশ নিয়েছেন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক কাজকর্মের পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট তিন জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও, আইসি এবং ওসিরাও উপস্থিত রয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, “বৈঠকে ডাক পেয়ে ভালো লাগছে। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীদের ডাকা হত না। অথচ বিরোধী দলের বিধায়কদেরও মানুষই নির্বাচিত করেছেন। আগে এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলি বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হত না। বর্তমান সরকার যেভাবে সবাইকে নিয়ে কাজ করছে, তা প্রশংসার যোগ্য।”
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, জনমুখী পরিষেবা, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলি এই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক ও সাংসদদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিরোধীদের আমন্ত্রণ জানানোর এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতির অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশাসনিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এই বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।
