Khaleda Zia | গৃহবধূ থেকে আপসহীন দেশনেত্রী: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান ও সংগ্রামের আলেখ্য

Khaleda Zia | গৃহবধূ থেকে আপসহীন দেশনেত্রী: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান ও সংগ্রামের আলেখ্য

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠা— খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) জীবন এক দীর্ঘ লড়াই ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের গল্প। তাঁর স্বামী তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (Ziaur Rahman) মৃত্যুর পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করে তিনি কেবল বিএনপিকে সুসংগঠিতই করেননি, বরং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশের (Bangladesh) ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে। তাঁর সেই ৪৩ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করেছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনীতির আঙিনায় পদার্পণ

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হন বিএনপি-র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। নেতৃত্বের সংকটে যখন বিএনপি দিশেহারা, ঠিক তখনই ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। চল্লিশের কোটায় পা রাখা এক গৃহবধূ থেকে দলের চেয়ারপার্সন (BNP Chairperson) হয়ে ওঠার পথটি সহজ ছিল না। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে তাঁর সাহসী ভূমিকা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

আপসহীন ভাবমূর্তি ও জোটের রাজনীতি

রাজনীতিতে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ‘আপসহীন নেত্রী’।  বাংলাদেশের সেনাশাসক হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের বিরোধী আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আজও প্রশংসিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত তাঁর নেতৃত্বই এরশাদের পতনে মুখ্য ভূমিকা রাখে। তিনি কেবল নিজের দলেই নন, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন সময় জোট গড়েছেন। ৭-দলীয়, ৪-দলীয় এবং পরবর্তীতে ২০-দলীয় জোটের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে জোটবদ্ধ আন্দোলনের নতুন মাত্রা যোগ করেন।

চরম সংকটেও অটল মনোবল

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনে বহু ঝড় এসেছে। ২০০৭ সালের ১/১১-র পর তাঁকে সপরিবারে কারাবরণ করতে হয়েছে। সে সময় তাঁকে দেশত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হলেও তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, “এই দেশ, এই দেশের মাটি-মানুষই আমার সবকিছু। আমি দেশের বাইরে যাব না।” গত দেড় দশকে তিনি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ক্যান্টনমেন্টের দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন, এমনকি অবরুদ্ধ থাকাকালীন ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুসংবাদ পেয়েছেন। তবুও তিনি ধৈর্য হারাননি। আবেগঘন হয়ে তিনি বলেছিলেন, “দেশবাসীই আমার স্বজন।”

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ঐক্যের প্রতীক

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এরপর ৭ই আগস্টের ভাষণে ধ্বংস বা প্রতিশোধের বদলে ‘ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ’ গড়ার ডাক দিয়ে তিনি নিজেকে এক পরিণত ও দূরদর্শী নেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, জীবনের সায়াহ্নে এসে খালেদা জিয়া এখন কেবল একটি দলের নেত্রী নন, বরং দলমত নির্বিশেষে অনেকের কাছেই এক ‘ঐক্যের প্রতীক’।

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পদে আসীন হওয়া এবং জেল-জুলুম সহ্য করেও আদর্শে অটল থাকা— খালেদা জিয়ার এই জীবন ইতিহাস আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *