উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) সংসদীয় রাজনীতির এক অপরাজেয় নক্ষত্র ছিলেন খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)। ১৯৯১ থেকে ২০০৮—যখন যে আসনেই লড়েছেন, জয় ছিল অবধারিত। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল তাঁর। তবে বিএনপি-র চেয়ারপার্সনের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আগেভাগেই ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প প্রার্থী ঠিক করে রেখেছিল দলটি (BNP election technique)।
খালেদা জিয়াকে এবার বগুড়া-৭, ফেনী-১ ও দিনাজপুর-৩ আসন থেকে প্রার্থী করেছিল বিএনপি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় থেকেই বিএনপি কৌশলগত কারণে বিকল্প নামগুলো সামনে এনেছিল। মঙ্গলবার সকালে তাঁর প্রয়াণের পর এখন সেই বিকল্প প্রার্থীরাই নির্বাচনে হাল ধরবেন। এই বিকল্প প্রার্থী হচ্ছেন কারা?
ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার বিকল্প হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপি-র আহ্বায়ক ও তাঁর নির্বাচনি সমন্বয়ক মুন্সি রফিকুল আলম (মজনু)। বগুড়া-৭ আসনে বিকল্প হিসেবে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন উপজেলা বিএনপি-র সভাপতি তথা প্রাক্তন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম। দিনাজপুর-৩ আসনে বিকল্প প্রার্থী হবেন প্রাক্তন পুর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। দলীয় হাইকমান্ড বিশ্বস্ত ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদেরই বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রেখেছিল বিএনপি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু আগেই জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া সশরীরে মাঠে না থাকলেও তাঁর নামেই প্রচার চলবে। এখন তাঁর প্রয়াণের পর ‘খালেদা-আবেগ’ই হবে বিএনপির প্রধান নির্বাচনি অস্ত্র। ভোটারদের সহমর্মিতা আদায় এবং খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সাফল্যকে তুলে ধরাই হবে বিকল্প প্রার্থীদের মূল কৌশল।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনটি আসনে লড়ে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তাঁর সেই আকাশছোঁয়া সাফল্যের রেকর্ড ধরে রাখা এবং শূন্যস্থান পূরণ করা এখন বিকল্প প্রার্থীদের জন্য অগ্নিপরীক্ষার সমান। বিকল্প প্রার্থীরা কি পারবেন খালেদার অপরাজেয় দুর্গ ধরে রাখতে? উত্তর মিলবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে।
