জলপাইগুড়ি: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে আছড়ে পড়ল বিদ্রোহের ঢেউ। রাজগঞ্জের চার বারের বিধায়ক তথা জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান খগেশ্বর রায়কে (Khageswar Roy) এবার টিকিট দিল না শাসকদল। তাঁর বদলে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণকে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং দলের বিরুদ্ধে ‘অবিচারের’ অভিযোগ তুলে জেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন বর্ষীয়ান নেতা খগেশ্বর রায়।
মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম না থাকার খবর পাওয়া মাত্রই অনুগামীদের নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন খগেশ্বর রায়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “দল আমার প্রতি ঘোর অবিচার করেছে। ২০০৯ সালে উপনির্বাচনে যখন রাজগঞ্জ সিপিএমের দুর্ভেদ্য লালদুর্গ ছিল, তখন আমি জয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। এরপর ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১—টানা চারবার দলকে এই আসন উপহার দিয়েছি। অথচ আজ আমাকেই সরিয়ে দেওয়া হলো।” তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, “আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম।”
২০০৯ সাল থেকে রাজগঞ্জে খগেশ্বর রায়ের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। রাজগঞ্জের ভূমিপুত্র হিসেবে নিচুতলার সংগঠনে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তবে এবার দল সেখানে ‘ফ্রেশ ফেস’ বা নতুন মুখ হিসেবে জলপাইগুড়ির মেয়ে স্বপ্না বর্মণকে সামনে এনেছে। কয়েক দিন আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এই কৃতি অ্যাথলিট। স্বপ্নার মতো জনপ্রিয় মুখকে সামনে রেখে যুব ভোট টানার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল, কিন্তু খগেশ্বর রায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে ব্রাত্য রাখায় রাজগঞ্জে দলের অন্দরে ফাটল ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দলের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে খগেশ্বর রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি আর জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদে থাকতে ইচ্ছুক নন। শীঘ্রই তিনি ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেবেন। তবে তিনি নির্দল হিসেবে লড়বেন নাকি অন্য কোনও পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন।
নির্বাচনের ঠিক মুখে রাজগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে দলের এই আদি-নব্য দ্বন্দ্ব এবং বর্ষীয়ান নেতার ক্ষোভ তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
