উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের মানচিত্রে কি এবার পাকাপাকিভাবে বদলে যেতে চলেছে কেরলের (Kerala) নাম? দিল্লির প্রশাসনিক অলিন্দে কান পাতলে এখন সেই গুঞ্জনই শোনা যাচ্ছে। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নতুন দপ্তর ‘সেবা তীর্থে’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসতে চলেছে। সূত্রের খবর, কেরল রাজ্য বিধানসভার পাঠানো রাজ্যটির নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ (Keralam) করার প্রস্তাবটি আজ আলোচনার টেবিলে উঠতে পারে।
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন দীর্ঘদিন ধরেই সওয়াল করছেন যে, মালয়ালম ভাষায় রাজ্যকে ‘কেরলম’ বলা হলেও সংবিধানের প্রথম তপশিলে (First Schedule) তা ‘কেরল’ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। বিজয়নের মতে, জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকেই মালয়ালি ভাষী মানুষের স্বপ্ন ছিল একটি অখণ্ড ‘কেরলম’ গঠন করা। স্থানীয় মানুষের এই দীর্ঘদিনের আবেগ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে মর্যাদা দিতেই সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নাম পরিবর্তন জরুরি।
এটিই প্রথম নয়, এর আগেও নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিল্লির দরবারে পাঠিয়েছিল বিজয়ন সরকার (Pinarayi Vijayan)। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কিছু কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরিমার্জনের পরামর্শ দিলে সেই প্রস্তাবটি পুনরায় বিবেচনা করা হয়। গত ২৪ জুন কেরল বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয়বারের মতো এই প্রস্তাব পাশ করানো হয়। প্রস্তাবের মূল দাবি হলো— সংবিধানের অষ্টম তপশিলে থাকা সমস্ত ভাষাতেই যেন রাজ্যটির নাম ‘কেরলম’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পায়।
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে এই ইস্যুটি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার যদি এই আবেগপ্রসূত প্রস্তাবে শিলমোহর দেয়, তবে তা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষার প্রতি দিল্লির বিশেষ সম্মান হিসেবেই গণ্য হবে। সাউথ ব্লকের বৈঠকের পর আজ ‘সেবা তীর্থে’ এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এখন দেখার, আজকের বৈঠকে মন্ত্রীসভার সবুজ সংকেত মেলার পর সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটা হয় কি না। যদি তা হয়, তবে ভারতের মানচিত্র থেকে ‘কেরল’ নামটির চিরস্থায়ী বিদায় এবং ‘কেরলম’-এর আত্মপ্রকাশ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
