শিলিগুড়ি: কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান (Kanchenjunga) কি বন্ধ হয়ে যাবে, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের (Sikkim CM Prem Singh Tamang) একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্ন উঠেছে। কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেবতা হিসেবে পুজো করেন সিকিমবাসী, তাই শ্বেতশুভ্র পর্বতশিখরটিতে পা রাখা অনুচিত, মনে করেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। শুধু মনে করা নয়, কেন্দ্র যাতে এ ব্যাপারে নেপালের সঙ্গে কথা বলে, তার জন্য তিনি চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা-কে। যদিও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কেন্দ্রের তরফে কিছু জানানো হয়নি। তবে তামাংয়ের চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে পর্বতারোহীদের মধ্যে। বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে, পর্বতারোহণ যেখানে আয়ের পথ, তা কেন নেপাল বন্ধ করতে যাবে?
কাঞ্চনজঙ্ঘা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র স্থান। এই বিশ্বাস এবং ভাবাবেগকে মর্যাদা দিয়ে ২০০১ সালে সিকিম দিয়ে ৮,৫৮৬ মিটার উচ্চতার কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযান বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবনকুমার চামলিং। প্রায় ২৫ বছর পর পূর্বসূরির পথ অনুসরণ করে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে নেপালের রাস্তাও বন্ধ করতে চাইছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। যে কারণে তাঁর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া। সম্প্রতি অরুণাচলপ্রদেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের একটি দল কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ জয় করেছে। একপরেই চিঠি লেখেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কাঞ্চনজঙ্ঘা আরোহণ ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী।
তবে নেপাল যে রাজি হবে না, সে ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত পর্বতারোহীরা। ২০১১ সালে প্রথম অসামরিক ভারতীয় হিসেবে কাঞ্চনজঙ্ঘা জয় করেছিলেন দুই বাঙালি দেবাশিস বিশ্বাস ও বসন্ত সিংহ রায়। দেবাশিস বলছেন, ‘স্থানীয় বিশ্বাস ও ধর্মীয় ভাবাবেগে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর জায়গা থেকে এমন দাবি করতেই পাকেন। কিন্তু নেপাল রাজি হবে বলে মনে হয় না। কেননা, এমন অভিযানের সঙ্গে রুটিরুজি জড়িয়ে রয়েছে।’ কাঞ্চনজঙ্ঘা নেপালের কাছেও পবিত্র ভূমি হওয়ায় শেরপারা অভিযানে যাওয়ার আগে নিরামিষ খান এবং পর্বতারোহীরাও ওই পথ অনুসরণ করেন, মনে করিয়ে দিচ্ছেন এভারেস্ট জয়ী দেবাশিস। এভারেস্ট জয়ী মলয় মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘যে কোনও পর্বতশৃঙ্গ ধরিত্রী মা। তাহলে তো সব শৃঙ্গ অভিযান বন্ধ করে দিতে হয়। শৃঙ্গে পা রাখার অনুভূতিটা ঈশ্বর দর্শনের।’
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পশ্চিম কাঞ্চনজঙ্ঘা (ইয়ালুংতাং নামে পরিচিত পর্বতারোহীদের কাছে) অভিযানে গিয়ে দুই শেরপা সহ নিখোঁজ হয়ে যান ছন্দা গায়েন। ২০১৯ সালে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে গিয়ে মারা যান দুই বাঙালি বিপ্লব বৈদ্য ও কুন্তল কাড়ার। এরপরেও এভারেস্টের মতো কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ জয় পর্বতারোহীদের কাছে স্বপ্ন।
