উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবারই লোকসভায় তৃণমূল সংসদীয় দলের চিফ হুইপ (Chief Whip) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। আর ইস্তফা দিয়েই কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে (Mahua Moitra) নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তার ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই ফের মহুয়াকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কল্যাণ। ২০২৩ সালের একটি ভিডিও পোস্ট করে মহুয়াকে অতীত মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। মহুয়ার মধ্যে ‘মৌলিক কৃতজ্ঞতার অভাব’ রয়েছে বলেও কল্যাণ তোপ দেগেছেন।
২০২৩ সালে ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছিল মহুয়ার বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই সময় মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কল্যাণ। সংসদে মহুয়ার সমর্থনে বক্তব্যও রেখেছিলেন তিনি। সেই ভিডিওই এক্স হ্যান্ডেলে মঙ্গলবার পোস্ট করে কল্যাণ লিখেছেন, ‘২০২৩ সালে সংসদে যখন শ্রীমতি মহুয়া মৈত্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তখন আমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। তবে বাধ্যবাধকতা থেকে নয়, আমি তা করেছিলাম দৃঢ় বিশ্বাস থেকে। কিন্তু আজ তিনি আমাকে একজন নারীবিদ্বেষী বলে সেই সমর্থনের প্রতিদান দিচ্ছেন। যার স্পষ্টতই মৌলিক কৃতজ্ঞতার অভাব রয়েছে, তাঁকে রক্ষা করার জন্য আমি জাতির কাছে ক্ষমা চাইছি। জনগণ তাঁর মন্তব্যগুলো দেখুক এবং সেই অনুযায়ী বিচার করুক।’
In 2023, I stood by Ms. Moitra when she was below fireplace in Parliament — I did so out of conviction, not compulsion. Right this moment, she repays that help by calling me a misogynist. I owe the nation an apology for having defended somebody who clearly lacks primary gratitude. Let folks see… pic.twitter.com/n1MIUpVM0J
— Kalyan Banerjee (@KBanerjee_AITC) August 5, 2025
প্রসঙ্গত, একই দলের সাংসদ কল্যাণ ও মহুয়া এর আগেও একে অপরের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কল্যাণের বিরুদ্ধে দলনেত্রীর কাছে নালিশ করে চিঠি দিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। অনেকেই ভেবেছিলেন পরিস্থিতি হয়তো ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির বদল যে এতটুকুও হয়নি তার প্রমাণ মিলেছে সোমবারই। লোকসভায় দলের মধ্যে সমন্বয় ঠিকমতো হচ্ছে না বলে গতকাল সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ওই বৈঠকের পরই লোকসভায় দলের চিফ হুইপের পদ থেকে ইস্তফা দেন কল্যাণ। এরপরই মহুয়াকে নিশানা করে কল্যাণ বলেছিলেন, ‘অনেকেই আছেন সুন্দর শাড়ি পরে, মুখে বড় বড় ইংরেজি বলেন তাঁর বেলায় কিছু না। তিনি আমাকে গালাগাল করছেন আর আমি চুপ করে থাকব?’ এরপরেই এদিন মহুয়াকে অতীত মনে করালেন কল্যাণ।
