উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: একটা সময় ছিল যখন হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা বা বাতের সমস্যা কেবল বার্ধক্যের লক্ষণ হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু বর্তমানে চিত্রটা বদলেছে। দেখা যাচ্ছে, ৩০ বছর পার করতে না করতেই অনেক তরুণ-তরুণী হাঁটু, কোমর বা কাঁধের ব্যথায় ভুগছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এই বয়সে জয়েন্টে ব্যথাকে স্রেফ ‘ক্লান্তি’ ভেবে এড়িয়ে যাওয়া হতে পারে আপনার জীবনের বড় ভুল।
কেন ৩০-এর কোঠায় বাড়ছে জয়েন্টে ব্যথা?
অস্থি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসই এর জন্য প্রধানত দায়ী। এর মূল কারণগুলো হলো:
-
বসা কাজের আধিক্য: দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সামনে একইভাবে বসে থাকা।
-
পুষ্টির অভাব: শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন D3-এর ঘাটতি।
-
অতিরিক্ত ওজন: শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়ায় জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়া।
-
ব্যায়ামের অভাব: কায়িক পরিশ্রম কম হওয়ায় হাড়ের সংযোগস্থলের নমনীয়তা কমে যাওয়া।
অবহেলা করলে কী বিপদ হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, ৩০-এর পরের এই ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সময়মতো চিকিৎসা না করা হয়, তবে তা অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস-এর মতো গুরুতর রোগের আকার নিতে পারে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় জয়েন্টের কার্টিলেজ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পরবর্তী জীবনে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
-
প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো (ভিটামিন D-এর জন্য)।
-
খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখা।
-
অফিসে কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া এবং হালকা স্ট্রেচিং করা।
-
ব্যথা কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুরু থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। ৩০ বছর বয়সের জয়েন্টে ব্যথাকে মোটেও হালকাভাবে নেবেন না, কারণ আজকের অবহেলা আগামীর দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের কারণ হতে পারে।
