উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন রাজনীতির অন্ধকার গলিতে আবারও ফিরে এল জেফ্রি এপস্টাইন নামটির আতঙ্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মঙ্গলবার মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন মামলার প্রায় ৩০,০০০ পাতার এক বিশাল নথি জনসমক্ষে এনেছে। আর এই ‘ডকুমেন্ট ডাম্প’-এর পর সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উড়ান নথিতে ট্রাম্পের নাম: নতুন প্রকাশিত এই নথির একটি ইমেল (জানুয়ারি ৭, ২০২০) থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প ইতিপূর্বে যা স্বীকার করেছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশিবার এপস্টাইনের ব্যক্তিগত জেটে সফর করেছেন। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে অন্তত আটটি ফ্লাইটে ট্রাম্পের নাম পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে চারবার তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন এপস্টাইনের কুখ্যাত সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েল।
আরও বিস্ফোরক তথ্য হলো, ১৯৯৩ সালের একটি ফ্লাইটে যাত্রী হিসেবে ছিলেন মাত্র তিনজন— এপস্টাইন নিজে, ট্রাম্প এবং একজন ২০ বছর বয়সী তরুণী (যার নাম নথিতে ঢেকে রাখা হয়েছে)। যদিও বিচার বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের প্রমাণ মেলেনি, তবুও এই তথ্যের প্রকাশ মার্কিন জনমানসে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করেছে।
রাজনীতির জটিল সমীকরণ: আগামী ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই নথির প্রকাশ রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগের নথিতে বিল ক্লিনটনের মতো ডেমোক্র্যাট নেতাদের নাম থাকলেও, বর্তমান কিস্তিতে ট্রাম্পের সফরের বিস্তারিত বিবরণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে এক বড় হাতিয়ার তুলে দিল।
ট্রাম্প অবশ্য বিষয়টিকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁর শাসনকালের অভাবনীয় সাফল্য থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এই পুরোনো ফাইল নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের বিরোধীরা একে ‘নৈতিক পরাজয়’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
এপস্টাইন ছায়া ও বিচার: ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের জেলে এপস্টাইনের রহস্যময় আত্মহত্যার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল— প্রভাবশালীরা কি পার পেয়ে যাবে? মার্কিন কংগ্রেসের নতুন স্বচ্ছতা আইনের অধীনে এই নথিগুলো প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। ভিডিও ক্লিপ, ছবি এবং ইমেলে ঠাসা এই নথিপত্র প্রমাণ করে যে ধনকুবের এপস্টাইন কীভাবে মার্কিন ক্ষমতার সর্বোচ্চ অলিন্দে নিজের জাল বিস্তার করেছিলেন।
এপস্টাইন কাণ্ড স্রেফ একটি যৌন কেলেঙ্কারি নয়, এটি মার্কিন ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চরম উদাহরণ। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি প্রমাণ না থাকলেও, এই ‘ফ্লাইট লগ’ তাঁর ভাবমূর্তিকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। আমেরিকার আসন্ন রাজনৈতিক যুদ্ধে এই ‘কালি’ কতখানি প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।
