পুনে: ভারতীয় বিজ্ঞান জগতে ইন্দ্রপতন। ৮৭ বছর বয়সে জীবনাবসান হল বিশিষ্ট ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী জয়ন্ত বিষ্ণু নার্লিকারের (Jayant Narlikar)। মঙ্গলবার পুনেতে তাঁর মৃত্যু হয়। ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চায় তিনি ছিলেন এক অগ্রদূত। তিনি পুনের ‘ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ (আইইউসিএএ)-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার কাজে তাঁর ভূমিকা চিরকাল ভারতের বিজ্ঞান জগৎ মনে রাখবে।
বছর দুয়েক আগে নার্লিকারের স্ত্রী বিশিষ্ট গণিতজ্ঞ মঙ্গলা রাজওয়াডের মৃত্যু হয়। স্ত্রী বিয়োগের পর থেকেই বিশিষ্ট এই জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী খানিকটা একা হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের তিন মেয়ে গীতা, গিরিজা ও লীলাবতী, প্রত্যেকেই বিজ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত।
জয়ন্ত নার্লিকারের প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোকপ্রকাশ করে বলেন, ‘জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগতে তাঁর অবদান অপরিসীম। তাঁর চিন্তাভাবনা আগামী প্রজন্মের গবেষকদের পথ দেখাবে। তিনি বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছেন। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের আন্দোলনে নার্লিকারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’
জয়ন্ত নার্লিকারের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৯ জুলাই, মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে। তাঁর বাবা ছিলেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) গণিত বিভাগের প্রধান। আর মা ছিলেন সংস্কৃত ভাষার পণ্ডিত। নার্লিকার বিএইচইউ থেকে ১৯৫৭ সালে স্নাতক হন।
নার্লিকার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল বিকল্প মহাজাগতিক তত্ত্ব প্রস্তাব করা, যা প্রচলিত বিগ ব্যাং তত্ত্বের বিরোধিতা করেছিল। তিনি মহাকর্ষ, কোয়ান্টাম কসমোলজি, মাখ-এর তত্ত্ব সহ একাধিক জটিল বিষয়ে কাজ করেছেন। নার্লিকার ২৬ বছর বয়সে পদ্মভূষণ (১৯৬৫) এবং পরে পদ্মবিভূষণ (২০০৪) পুরস্কারে সম্মানিত হন। ভারতে বিজ্ঞান আন্দোলনের ইতিহাসে জয়ন্ত নার্লিকারের নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
