অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: জল্পেশের (Jalpesh) শ্রাবণীমেলায় ডিজে নিষিদ্ধ করা হলেও নাচ, গান, আনন্দে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য বাজনা ভাড়া করছে পুণ্যার্থীর দল। সেই ভাড়া করা বাজনার তালে চলছে উদ্দাম নৃত্য। চলতি সপ্তাহে এরকম ছবি চোখে পড়ছে জল্পেশে। অন্যদিকে এবছর বেশকিছু তরুণ জাতীয় সড়কে স্কেটিং করে শ্রাবণীমেলায় যাচ্ছেন। জাতীয় সড়কে এভাবে স্কেটিং করলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রশাসনের তরফে এবিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অফিশিয়াল সামাজিক মাধ্যমে স্কেটিং না করার বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে।
২০২২ সালে পিকআপ ভ্যানে ডিজে বাজিয়ে জল্পেশের শ্রাবণীমেলায় আসার সময় জেনারেটর থেকে শর্টসার্কিট হয়ে দশজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর ডিজে বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়৷ গত বছর থেকে পুলিশ ডিজে ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি শুরু করে। কিন্তু এবছর ডিজে নিয়ে মেলায় যাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে।
কিন্তু পুণ্যার্থীদের একাংশ নিজেদের আনন্দে ব্যাঘাত দিতে নারাজ। তাই ডিজে না থাকলেও মন্দিরে যাওয়া ও ফেরার সময় তাঁরা বাজনার দল ভাড়া করছেন। এর আগে এভাবে বাজনা ভাড়া করে জল ঢালতে আসার ঘাটনা সেভাবে দেখা যায়নি। রবি ও সোমবার ময়নাগুড়ি ব্লকের পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালবাজার, নাগরাকাটা, ফালাকাটা, মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙ্গা থেকে পুণ্যার্থীদের বাজনা নিয়ে আসতে দেখা যায়। তিস্তার ঘাটে জল নেওয়ার সময় সেই বাজনার ছন্দে অন্য দলের পুণ্যার্থীরাও পা মেলান।
রাজগঞ্জ থেকে জল্পেশে আসা দেবরাজ সরকার বলেন, ‘আমরা ২০ জন বন্ধু মিলে জল্পেশে জল ঢালতে এসেছি। ডিজে নিষিদ্ধ থাকায় পথে যাতে আনন্দ করতে পারি সেজন্য বাজনা ভাড়া করেছি।’ একই রকমভাবে ধূপগুড়ি থেকে বাজনা ভাড়া করে নিয়ে এসেছে আরেকটি দল৷ ওই দলের এক পুণ্যার্থী অলোক দাস বলেন, ‘পায়ে হেঁটে এতটা পথ যেতে হবে। তাই নিজেদের মনোরঞ্জনের জন্য বাজনার ব্যবস্থা করেছি।’
অসময়ে বাজনা ভাড়া হওয়ায় খুশি বাজনাবাদকরাও। এক বাজনাবাদক লোকেশ মণ্ডল বলেন, ‘এই সময় সাধারণত বাজনার বরাত থাকে না। এখন থেকে যদি শ্রাবণীমেলার সময় বাজনার রেওয়াজ শুরু হয় তাহলে আমাদের কিছুটা আয় হবে।’ আরেক বাজনাবাদক প্রদীপ রায় জানান, আগামী সপ্তাহে জল্পেশে বাজনার বরাত রয়েছে।
