Jalpaiguri | রাজনীতির রং মিশিয়ে দোল কাটালেন নেতারা

Jalpaiguri | রাজনীতির রং মিশিয়ে দোল কাটালেন নেতারা

শিক্ষা
Spread the love


পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে যাঁরা নতুন তাঁরা কেউ ঘরে পরিবারের সঙ্গে একটু সময় কাটালেন। কেউ আবার এলাকায় নিজের পরিচিতি আরেকটু ঝালিয়ে নিলেন। পোড়খাওয়া বিধায়করা অবশ্য জানেন, ভোটের বছরে দোল-হোলির দু’দিন ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তাই তাঁরা মঙ্গলবার সকাল থেকেই ব্যস্ত। বুধবার বিকেলে তাঁরা ক্লান্ত শরীরেও মুখের হাসিটুকু ধরে রাখছেন শুভেচ্ছা বিনিময়ে।

এই মুহূর্তে জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) ভোটের বাজারে সবচেয়ে আলোচিত নাম স্বপ্না বর্মন। তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হচ্ছেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট। কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই দোলের দু’দিন এবার রং খেলছেন না স্বপ্না। কেন? প্রশ্ন করতেই স্বপ্নার জবাব, ‘নির্বাচনে জিতে আসার পরেই সমস্ত কর্মী-সমর্থককে নিয়ে আনন্দের রং মাখব।’ এই দু’দিন বাড়ির লোকজনের সঙ্গেই কাটাচ্ছেন স্বপ্না। বলছেন, ‘দোলের পর দলীয় কর্মসূচিতে নামব। তখনই জনসংযোগ করব। এই দু’দিন নিজেকে বিশ্রাম দিলাম।’

স্বপ্নার প্রতিপক্ষ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তাঁর। ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবারও বুথে বুথে ঘুরেছেন। বুধবার একটু হালকা হয়ে নিজের পাড়ার দলীয় অফিস ও বুথে গিয়ে রং খেলেন। শিখা বললেন, ‘এখন নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের কাছে গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করতেই মঙ্গলবার গোটা দিন কীভাবে পেরিয়ে গেল, বুঝতেই পারিনি।’

মঙ্গলবার সকালেই মাল আদর্শ স্কুলে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাইরে নিজের কেন্দ্রের কয়েকটি জায়গায় বসন্ত উৎসবে শামিল হয়েছিলেন মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইক। বাকি সময় নিজের বাড়ি রাঙ্গামাটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে গল্প জমালেন। বুধবার বিকেলে মন্ত্রী বলছেন, ‘দোল উৎসব যে কোনদিক দিয়ে চলে গেল বুঝতেই পারলাম না।’

ময়নাগুড়ি কেন্দ্রে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকায় জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি রামমোহন রায়ের নাম রয়েছে। দলের জেলা যুব সভাপতি রামমোহনের এলাকায় ভালো পরিচিতি রয়েছে। প্রার্থী হলে সেই পরিচিতিই যে তাঁর সেরা অস্ত্র হবে, সেকথা বুঝতে ভুল হয়নি যুব নেতার। হোলির দু’দিন তাই বাড়ির আশপাশ এলাকা থেকে ময়নাগুড়ি বিধানসভার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সব বয়সির সঙ্গে চুটিয়ে রং খেলেছেন রামমোহন। বুধবার সকালে বাড়িতেই বৃহন্নলাদের সঙ্গে একপ্রস্থ হোলি খেলে জনসংযোগ করতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। রং খেলার ফাঁকেই দলীয় নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললেন। রামমোহনের কথায়, দলের যেই প্রার্থী হন না কেন, তাঁকে জেতাতে হবে। দোল এমন এক উৎসব যার মাধ্যমে সব ধরনের মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সহজে করা যায়।’

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকে এবার অন্যান্য মুখের পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দীপেন প্রামাণিক প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। মঙ্গলবারই কলকাতা থেকে ফিরেই নিজের গ্রাম নগর বেরুবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় বসন্ত উৎসবে শামিল হয়েছিলেন। বুধবার জলপাইগুড়ি শহরে এসে দলীয় ও সামাজিক জনসংযোগ সারলেন তিনি। দীপেনের কথায়, ‘রং খেলা এখন সর্বজনীন। জনসংযোগে সব বয়সের মানুষের সান্নিধ্যে আসা যায়।’

নাগরাকাটা বিধানসভায় তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থীতালিকায় পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সঞ্জয় কুজুর রং খেলেন না অ্যালার্জি বলে। তবে দোলের প্রথম দিন চা বলয়ে ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ সেরেছেন। বুধবার সপরিবারে বাইরে ঘুরেছেন। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে থাকা জন বারলা অবশ্য রং খেলেন না। তবে, দু’দিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিয়েছেন।

ধূপগুড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল বিধায়ক নির্মলচন্দ্র রায় এবারও প্রার্থী হবেন কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে দোলের দু’দিন তিনি কাটালেন এলাকার মানুষজনের সঙ্গে।

রাজগঞ্জ বিধানসভায় ফের প্রার্থী হচ্ছেন, এই বিশ্বাস থেকেই দোলের দু’দিন নিজের বিধানসভা এলাকায় ছুটে বেড়ালেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক খগেশ্বর রায়। কখনও নিজের কেন্দ্রের কোনও এলাকায় আবির-রং নিয়ে হাজির, কখনও বেলাকোবার প্রবীণদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা। বুধবার বিকেলে ফোনে বললেন, ‘নিজের কেন্দ্রের বাইরেও অনেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেখানেও গিয়েছি। দলমতনির্বিশেষে সমস্ত রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে রং খেলেছি সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *