Jalpaiguri | ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার জাতীয় চ্যাম্পিয়নের

Jalpaiguri | ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার জাতীয় চ্যাম্পিয়নের

শিক্ষা
Spread the love


বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: কোচিং থেকে বান্ধবীদের নিয়ে পুজো দেখতে গিয়েছিল নবম শ্রেণির ছাত্রী ময়ূরাক্ষী দে। বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় মা মোবাইল ফোনে ফোন করে সামান্য বকুনি দিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরেই ন্যাশনাল আর্টিস্টিক যোগা ও যোগাসনে চ্যাম্পিয়ন ময়ূরাক্ষীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল তার শোয়ার ঘর থেকে। পুজোর আবহে সারা শহরে খুশির মেজাজ এমন ঘটনায় শোকের আবহে বদলে গিয়েছে।

বুধবার রাতে মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গল্প করছিলেন ময়ূরাক্ষীর মা পিংকি। পরিবারের ধারণা, এরমধ্যেই সম্ভবত ফাঁকা বাড়িতে ফিরে আসে মেয়ে। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করে ওঠেন পিংকি। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। তাঁরাই খবর দেন থানায়। পুলিশ এসে ময়ূরাক্ষীকে উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার ভাইফোঁটার দিন দুপুরে তার নিথর দেহ আসে বাড়িতে।

এদিন বিকেলে ময়নাগুড়ি শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় ময়ূরাক্ষীর। মা পিংকি এবং বাবা সুবল কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি, সামান্য বকুনিতে এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে মেয়ে। তাঁরা কার্যত বাকরুদ্ধ। ময়ূরাক্ষী চলতি বছরের ২৬ অগাস্ট কলকাতার চন্দননগরে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল যোগা স্পোর্টস ২০২৫-এ আর্টিস্টিক যোগা এবং যোগাসনে চ্যাম্পিয়ন হয়। দুটি ট্রফি ও একটি স্কুটি উপহার পায় সে।

ভাইফোঁটার দিন দুপুরে দিদির নিথর দেহ উঠোনের কোণে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে নয়ন। একটি বেসরকারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সে। সুবল পরিবহণ ব্যবসায়ী, স্ত্রী পিংকি গৃহবধূ। জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ময়ূরাক্ষীকে স্কুল তো বটেই, শহরের সকলেই চিনতেন। প্রতিভাশালী বলেই পরিচিত ছিল সে। এদিন তাকে শেষবার দেখতে এসে অনেকেই শোকস্তব্ধ। আইএনটিটিইউসি-র ময়নাগুড়ি টাউন ব্লক সভাপতি কল্যাণ সাহা বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। কিছু বলার ভাষা নেই।’

কাকা শ্যামল দে বলেন, ‘খুবই শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল ও। প্রাইভেট টিউশন সেরে বান্ধবীদের নিয়ে পুজো দেখছিল। বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় মা মোবাইল ফোনে খুব সাধারণভাবেই বকাবকি করেন। মায়ের ফোন পেয়েই সে ফাঁকা বাড়িতে ফিরে এমন কাজ করে বলে অনুমান। আমাদের ভাবতেই অবাক লাগছে ওর মতো মেয়ে এমন কাজ করল।’

৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমি সেন বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। বিশ্বাস করতেই পারছি না।’ ময়নাগুড়ি নাগরিক চেতনার সম্পাদক অপু রাউত বলেন, ‘ময়ূরাক্ষী জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ময়নাগুড়ি শহরে ওকে নিয়ে একটি শোভাযাত্রা বের হয়েছিল। সেই সময় রাস্তায় ওকে আশীর্বাদ করেছি। অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। মেনে নেওয়া যায় না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *