বছর দুয়েক আগেও টোটো গ্রামে ঢুকতে চাইত না। এখন ঝাঁ চকচকে কংক্রিটের রাস্তা বাড়ির উঠোন পর্যন্ত এসে গিয়েছে। টোটোচালকরা আর বাজারে নামিয়ে দেন না যাত্রীদের, বাড়ির সামনে নামান।
সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: মাঠ থেকে এদিন গোরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন বসুনিয়াপাড়ার বাসিন্দা হরেন রায়। রাস্তার ছবি তুলতে দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন তিনি। জানতে চাইলেন, রাস্তাটা কি আবার চওড়া হবে নাকি? সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর এলাকায় কোনও সমস্যা রয়েছে কি না প্রশ্ন করতেই হরেনের উত্তর, ‘রাস্তা, জল, আলো সবই তো পাচ্ছি। সমস্যা তো তেমন কিছু নেই। তবে শুনেছি এই রাস্তাটা নাকি আরও চওড়া হবে।’
হরেনের কথা শেষ না হতেই পাশ থেকে এলাকার আরেক বাসিন্দা সুশীলা রায় স্মৃতিচারণ করলেন পুরোনো দিনের ভোগান্তির কথা। জানালেন, কয়েকবছর আগে এরকম বাইক চালিয়ে আসতে পারতেন না। জোড়াআম বাজারে টোটো নামিয়ে দিত। আর এখন? এখন জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) সদর ব্লকের বসুনিয়াপাড়া এবং তেলিপাড়ার ছবিটা বদলে গিয়েছে। এখন আর সমস্যা হয় না। তাঁর কথায়, ‘জলকাদা ভরা রাস্তার জন্য আগে টোটো গ্রামে ঢুকতে চাইত না। জোড়াআম বাজার থেকে দুই কিলোমিটার হেঁটে বাড়ি আসতে হত। এখন তো বাড়ির দরজায় টোটো এসে নামিয়ে দিয়ে যায়।’
জলপাইগুড়ি শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বারোপাটিয়া নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েত। দু’বছর আগেও এলাকার মানুষের অন্যতম বড় সমস্যার বিষয় ছিল রাস্তা। বর্ষার মরশুমে গ্রামে যে চলাফেরা দায় হয়ে পড়েছিল, তা অনেকটাই পরিষ্কার বাসিন্দাদের কথাতেই। রাস্তার একদম প্রায় শেষপ্রান্তে দেখা হল তেলিপাড়ার বাসিন্দা রহমত আলির সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘আগে বর্ষার সময় আমরা বাড়িতে অতিথিদের আসতে মানা করে দিতাম। কারণ আমাদের রাস্তাই ছিল না।’
রাস্তা নিয়ে যাতে মানুষের কোনও অভিযোগ না থাকে, সেকারণে উন্নয়ন খাতে রাস্তা তৈরিতেই সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বারোপাটিয়া নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় আড়াই কিমি কংক্রিটের রাস্তার একদিকে বসুনিয়াপাড়া, অন্যপাশে তেলিপাড়া। বছর দুয়েক আগে পঞ্চায়েতের তরফে দুই দফায় লক্ষাধিক টাকা খরচ করে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। বর্ষায় এখন আর রাস্তার কাদায় পা পড়ে না গ্রামবাসীদের। এলাকার প্রায় সব বাড়ির উঠোন বা বারান্দার সামনে থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে কংক্রিটের রাস্তা। সেই রাস্তাই গিয়ে যুক্ত হয়েছে পিচের বড় রাস্তার সঙ্গে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গ্রামের এলাকার প্রায় সমস্তটাই পাকা রাস্তা। এমনকি গ্রামের ফাঁকা জায়গায় একটিমাত্র বাড়ি থাকলেও সেই বাড়ির সদস্যদের চলাচলের জন্য ১৫০-২০০ মিটার কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান মালা ওরাওঁ বলেন, ‘আমার গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৮০ শতাংশ রাস্তাই পাকা। বিশেষ করে বসুনিয়াপাড়া, তেলিপাড়া গ্রামে আমরা প্রতিটি অলিগলি পর্যন্ত কংক্রিটের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছি।’
