উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আকাশছোঁয়া জ্বালানির দাম—এই দুই সাঁড়াশির চাপে বিশ্ব অর্থনীতি। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে এবার এক অভাবনীয় কৌশল নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) প্রশাসন। সমুদ্রে থাকা প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেলের (Iranian oil) ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা (US Sanctions)। আর মার্কিন এই সিদ্ধান্তে সবথেকে বড় সুবিধা হতে পারে ভারতের।
কেন এই হঠাৎ বদল?
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রে থাকা প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেলকে নিষেধাজ্ঞামুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এগুলোর বড় অংশই মূলত চিনের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু অনুমতি মিললে কয়েকদিনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে ছাড়া যেতে পারে। বেসেন্ট বলেন, “জলপথে থাকা ইরানি তেলকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে… এতে প্রায় ১০–১৪ দিনের সমপরিমাণ জোগান বাজারে আসবে, যা দাম কমাতে সাহায্য করবে।” তাছাড়া, অতিরিক্ত চাপ কমাতে মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ থেকেও তেল ছাড়ার সম্ভাবনা আছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। কাতারের এলএনজি প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই অবস্থায় সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি ট্যাঙ্কারগুলোকে ছেড়ে দিলে বাজারে দ্রুত জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হবে।
ভারতের জন্য কেন এটি বড় সুযোগ?
২০১৯ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ভারত ইরান থেকে তেল নেওয়া বন্ধ রেখেছিল। বর্তমানে ভারত মূলত রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের ওপর থেকে সামান্য কড়াকড়ি কমলেই ভারতের জন্য পৌষ মাস। কারণ, ভারতীয় রিফাইনারিগুলো ইরানি তেলের গুণমানের সঙ্গে দীর্ঘকাল অভ্যস্ত।বর্তমানে সমুদ্রে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল ভাসছে, যা দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব, ভৌগোলিক কারণে ইরানের থেকে তেল আনা ভারতের জন্য সাশ্রয়ী ও দ্রুত।
কাঁটা কোথায়?
তবে এখনই সবটা নিশ্চিত নয়। এই ছাড় কতদিনের জন্য মিলবে, জাহাজ চলাচলের বিমা (Insurance coverage) পাওয়া যাবে কি না এবং রাশিয়ার মতো ইরানও সস্তায় তেল দেবে কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এছাড়া পেমেন্ট সিস্টেমের জটিলতাও একটি বড় ফ্যাক্টর।
মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে, তবে তা ভারতের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেবে। এখন দেখার, মোদি সরকার এই কূটনৈতিক উইন্ডোকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় ইরানের বাজারে প্রবেশ করে কি না।
