উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় (US-Israel Strikes) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে (Ayatollah Ali Khamenei loss of life)। গত তিন দশক ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থার শেষ কথা ছিলেন খামেনেই। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান কেবল ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Iran Supreme Chief Succession)। বর্তমানে প্রশ্ন উঠেছে, কে হবেন ইরানের পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’?
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতাকে অবশ্যই একজন উচ্চপদস্থ শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক হতে হবে। খামেনেইর উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতোল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির নাতি হাসান খোমেইনির নাম দীর্ঘকাল ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে মোজতবা খামেনেইকে নিয়ে ইরানের অন্দরেও বিতর্ক আছে, কারণ রাজতান্ত্রিক উত্তরাধিকারের ধাঁচে ক্ষমতা হস্তান্তর অনেকেই পছন্দ করছেন না। এছাড়া সাদিক লারিজানি বা মোহসেন আরাকির মতো অভিজ্ঞ ধর্মতাত্ত্বিকদের নামও উঠে আসছে।
ইরানের শাসনব্যবস্থায় ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ পরবর্তী নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। শনিবারের হামলায় রিভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC)-এর প্রভাবশালী কমান্ডার মহম্মদ পাকপুর এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষাকারী প্রধান স্তম্ভগুলি ধাক্কা খেয়েছে। ফলে প্রথাগত আইনি প্রক্রিয়ায় উত্তরসূরি নির্বাচন কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
ইরানের প্রকৃত ক্ষমতার চাবিকাঠি থাকে আইআরজিসি-র হাতে। খামেনেইর শাসনামলে এই বাহিনী রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বিশাল প্রভাব বিস্তার করেছিল। বর্তমান শূন্যতায় এই সেনাশক্তি যাকে সমর্থন করবে, তিনিই তেহরানের মসনদে বসবেন। কিন্তু ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ধারাবাহিক সফল হামলা ইরানের নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং বাহিনীর মনোবলকে খাদের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে ইরানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং কড়া হিজাব আইনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ দেখা গিয়েছে। শাসনব্যবস্থার শীর্ষ স্তরের এই ভাঙন সাধারণ মানুষকে নতুন করে আন্দোলনের সাহস জোগাতে পারে। সব মিলিয়ে, খামেনেই-হীন ইরান এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ধর্মতন্ত্র টিকে থাকবে নাকি সামরিক অভ্যুত্থান বা জনবিস্ফোরণ ঘটবে, তার উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ।
