উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা কি তবে বেজে গেল? কাতারের মার্কিন সেনাঘাঁটির তৎপরতা এবং ইরানের হঠাৎ আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তেহরানে মার্কিন হামলার জল্পনা তীব্র হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে আচমকাই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করার ঘোষণা করে ইরান (Iran Shuts Airspace)। প্রাথমিকভাবে দু’ঘণ্টার জন্য এই বিধিনিষেধ জারি করা হলেও পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তেহরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দানা বাঁধছে নতুন সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা (Iran-US battle)।
অন্যদিকে, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বৃহত্তম সামরিক কেন্দ্র, যেখান থেকে বেশ কিছু অসামরিক কর্মীকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকা (US navy Qatar base)। গত বছর জুন মাসে ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলার আগেও ঠিক একইভাবে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে কুয়েতের মার্কিন দূতাবাসও কর্মীদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আমেরিকা ফের কোনও বড়সড়ো সামরিক অভিযান চালাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
যদিও ইরান কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা বন্ধের কোনও নির্দিষ্ট কারণ এখনও জানায়নি। তবে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতীয় আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবাগুলোতে। এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো সংস্থাগুলো দ্রুত বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ইরানের আকাশপথ এড়িয়ে বিকল্প পথে বিমান চালানো হচ্ছে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ইরানও পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে যদি ইরানের উপর হামলা চালানো হয়, তবে সেইসব ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। তবে হোয়াইট হাউসের অবস্থান এখনও কিছুটা ধোঁয়াশায় ভরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘ইতিবাচক বিবৃতি’ পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইরানের অভ্যন্তরে পরিস্থিতি ভয়াবহ। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরকার বিরোধী আন্দোলনে এ পর্যন্ত প্রায় ২,৬০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই উত্তপ্ত আবহে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের পথে হাঁটে নাকি কূটনৈতিক চাপে তেহরানকে কোণঠাসা করে, এখন সেটাই দেখার।
