উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই এবার বড়সড়ো কূটনৈতিক মোড়। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলেন ইরানের (Iran) প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ইজরায়েল এবং আমেরিকার সঙ্গে শত্রুতা তীব্রতর হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির (Gulf neighbors) সঙ্গে ইরানের কোনও শত্রুতা নেই। তবে এই বার্তার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে (Donald Trump) চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার এক টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পেজেশকিয়ান সাফ জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর মিসাইল না ছোঁড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরানের তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী কাউন্সিল। তাঁর আশ্বাস, প্রতিবেশী দেশগুলি যদি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বা ইজ়রায়েলি হামলায় মদত না দেয়, তবে তেহরান আর কোনও আক্রমণ চালাবে না।
সম্প্রতি ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তেহরান তীব্র প্রত্যাঘাত শুরু করেছিল। এই পালটাপালটি হামলায় জর্ডন, সৌদি আরব বা বাহরিনের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করে ইরান। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এবার সুর নরম করে পেজেশকিয়ান জানান, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলার জন্য ইরান তাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলিকে ক্রমশ শত্রুতে পরিণত করছিল। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলি ইরানের বিরুদ্ধে যাতে বেঁকে না বসে, সেই কারণেই ইরানের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প সরাসরি ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবি তুলেছেন। তিনি জানান, আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনও সমঝোতা হবে না এবং ইরানে নতুন নেতৃত্ব এলে তবেই দেশটি পুনর্গঠনে সাহায্য করবে ওয়াশিংটন। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তিনি সাফ জানান, ‘ইরানের আত্মসমর্পণের স্বপ্ন নিয়েই ট্রাম্পকে সমাধিস্থ হতে হবে।’ অর্থাৎ, প্রতিবেশীদের প্রতি নরম হলেও আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই যে এখনই থামছে না, তা স্পষ্ট।
অন্যদিকে, খামেনেই-পরবর্তী ইরানে এখন ক্ষমতার রাশ তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের হাতে। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনেই-পুত্র মোজতবা খামেনেইয়ের নাম শোনা গেলেও এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে শনিবার সকালেও বেশ কিছু আরব দেশে হামলার খবর মিলেছে। যুদ্ধের কবলে পড়ে এপর্যন্ত ১,৩৩২ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। অন্যদিকে, ইজরায়েলে ১১ জন এবং ৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। লেবাননে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতেও ধস নেমেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারেও।
