উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কি তবে যুদ্ধের দামামা? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হুঁশিয়ারি এবং ইরানের সাধারণ মানুষের ফোনে আসা রহস্যময় বার্তায় তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। একদিকে পারস্য উপসাগরে আমেরিকার বিশাল রণতরী মোতায়েন, অন্যদিকে ইরানের ভেতরে হিজাব ও শাসনব্যবস্থা বিরোধী ছাত্র বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তেহরান।
সোমবার সকালে হাজার হাজার ইরানি নাগরিকের ফোনে একটি উড়ো বার্তা (SMS) আসে। ফার্সি ভাষায় লেখা সেই বার্তায় বলা হয়েছে, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট কাজের মানুষ। অপেক্ষা করো আর দেখো।” এই ঘটনার পর থেকেই তেহরান জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কূটনীতিতজ্ঞদের মতে, এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের অংশ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় আসার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় ‘সীমিত সামরিক হামলা’র পথে হাঁটতে পারে ওয়াশিংটন। আমেরিকার দাবি, ইরান কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দেওয়াও বন্ধ করুক।
বাইরে থেকে যখন যুদ্ধের হুমকি আসছে, তখন ইরানের ভেতরেই শুরু হয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলন। তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সেমিস্টার শুরুর দিনেই ছাত্রছাত্রীরা পথে নেমেছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ছাত্রীরা ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র নিপাত যাক’ স্লোগান দিচ্ছেন এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পরবর্তী জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসে হওয়া বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জেরে প্রায় ৭,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে হাতের বাইরে চলে যেতে পারে, এই আশঙ্কায় ভারত সরকার সোমবার এক নির্দেশিকায় ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত সে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভারতের পাশাপাশি সুইডেন, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং সার্বিয়াও তাদের নাগরিকদের জন্য একই ধরণের সতর্কতা জারি করেছে। লেবানন থেকে ইতিমধ্যে ডজন খানেক দূতাবাস কর্মীকে সরিয়ে নিয়েছে আমেরিকা।
আগামী বৃহস্পতিবার জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার কথা রয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তাঁরা একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
