উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশের অপসারিত আইপিএস আধিকারিকদের (IPS Switch) নিয়ে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত চরমে পৌঁছাল। বুধবার বিকেলে নবান্ন ১৯ জন অপসারিত আধিকারিককে সিআইডি, আইবি ও এসটিএফ-এর মতো অ-নির্বাচনী শাখায় পুনর্বহাল করার নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই নির্দেশিকা বাতিল করে দিল কমিশন। বুধবার রাতেই নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, ওই আধিকারিকদের মধ্যে ১৫ জনকে অবিলম্বে তামিলনাড়ু ও কেরলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক (Observer) হিসেবে কাজে যোগ দিতে হবে।
কমিশনের এই তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আইপিএস। বিধাননগরের অপসারিত পুলিশ কমিশনার মুরলী ধর এবং শিলিগুড়ির অপসারিত পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজ়া-সহ মোট ১৫ জনকে ভিনরাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। তালিকায় থাকা অন্য আধিকারিকরা হলেন, আকাশ মাঘরিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। মুকেশ, প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা এবং রশিদ মুনির খান।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সাধারণত পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানোর আগে আধিকারিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এই ১৫ জনের মধ্যে একমাত্র প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী ছাড়া বাকি কারোরই সেই প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ ছাড়াই কেন তাঁদের তড়িঘড়ি ভিনরাজ্যে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কমিশন সূত্রের দাবি, পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়।
নবান্নের পুনর্বহালের নির্দেশিকা জারির ঠিক পরেই কমিশনের এই পাল্টা পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের দাবি, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেক আধিকারিক বসিয়ে রেখে অপ্রশিক্ষিতদের কেন পাঠানো হচ্ছে, তার কোনও সদুত্তর নেই। অন্য অংশ আবার বলছে, নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক স্তরে যে কোনও রদবদল করার পূর্ণ এক্তিয়ার রয়েছে কমিশনের এবং তারা সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছে।
ভোটের ঠিক মুখে রাজ্য পুলিশের এই শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের বাংলা থেকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
