উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: এখনও স্বাভাবিক হল না ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা। শুক্রবার হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে ইন্ডিগো (IndiGo flight cancellations)। শনিবার আরও শতাধিক ফ্লাইট হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। দেশের বৃহত্তম ডোমেস্টিক এয়ারলাইন্স এখন বিপর্যয়ের মুখে। ফলে যাত্রী ভোগান্তির শেষ নেই। জানা গিয়েছে, অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের (DGCA) নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর থেকেই তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল বিমান চলাচল নিয়ে। তার জেরেই ইন্ডিগো বিপুল সংখ্যক উড়ান বাতিল করতে বাধ্য হয়, যার ফলে যাত্রীদের চূড়ান্ত ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
চলতি অব্যবস্থার জন্য বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইন্ডিগো। তবে তাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমেনি। গতকাল সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স (Pieter Elbers) প্রথম বিবৃতি জারি করে এই পরিচালনগত অস্থিরতার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ দিন সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, ইন্ডিগোর গোটা অপারেশনাল সিস্টেম রিবুট করার ফলেই এই ব্যাপক পরিষেবা বিঘ্ন ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের উদ্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি।
We’re sorry 🙏 pic.twitter.com/8DmY2rJrjR
— IndiGo (@IndiGo6E) December 5, 2025
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ফ্লাইট বাতিলের কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি সরকার ইন্ডিগোকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন বিমান চলাচল নিয়মাবলি (FDTL) থেকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে।
গতকাল দিল্লি বিমানবন্দর থেকে দিনের সমস্ত উড়ান বাতিল করে ইন্ডিগো। চেন্নাই বিমানবন্দর থেকেও দিনের সকল দেশীয় ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এছাড়া বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি ও মুম্বইমুখী সমস্ত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইন্ডিগোর বিপুল সংখ্যক যাত্রী বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। এদিকে ইন্ডিগো বিভ্রাটের জেরে অন্যান্য বিমান সংস্থা হঠাৎ করেই বিমানভাড়া আকাশছোঁয়া করে দেয়। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু বিভিন্ন পাইলট সংগঠন-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সহযোগিতার আবেদন জানান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইন্ডিগোর গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা’ও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে FDTL-এর নয়া নিয়ম। এতে পাইলটদের ডিউটি-র সময় কমছে। তা মোকাবিলার প্রস্তুতি ইন্ডিগোর ছিল না। ফলে ক্রু ঘাটতি, রোস্টার সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার জেরে ব্যাপক অপারেশনাল চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিজিসিএ কিছু নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করেছে।
