শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধে বিশ্ব উত্তাল। এমন পরিস্থিতিতে হোঁচট খেতে পারে ভারতীয় চায়ের (India Tea Commerce Threat) রপ্তানি। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গোটা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের আবহে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দেশীয় চা রপ্তানি বাণিজ্যের কী হবে তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তেহরানও বসে নেই। পালটা আক্রমণ শানাচ্ছে তারাও। এরপর যদি ইরান পশ্চিম পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তাহলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যেতে পারে। ওই পথেই ভারতের চা ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, পোল্যান্ডের মতো ইউরোপিয়ান দেশগুলি সহ আমেরিকাতেও যায়।
চা মহল জানাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সহ ইরান দেশীয় সিটিসি ও অর্থডক্স দুই ধরনের চায়েরই ক্রেতা। এর মধ্যে কিছু অর্থডক্স চা দার্জিলিং (Darjeeling) থেকে যায়। ২০২৫ সালে ভারত থেকে ইরানে ১১.২৫ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা রপ্তানি করা হয়েছে। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল ৯.২৫ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। চলতি বছরে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে, এমনই আশা করেছিল দেশের চা মহল। ইরানের ওপর আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেদেশে দেশীয় চায়ের রপ্তানি প্রবাহ বন্ধ হয়নি। ২০২৫-এ ভারত সমস্ত দেশ মিলিয়ে প্রায় ২৮০.৪০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা রপ্তানি করে রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু নতুন বছরের মার্চ মাসের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরব দুনিয়ায় ইরানের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরাক, সৌদি আরবের মতো দেশগুলিতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চা যায়। গত বছর ওই তিন দেশে যথাক্রমে ৫০.৭১, ৫২.৫৯ ও ৭.৯৪ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা গিয়েছে। দুবাই রুট দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে চা পৌঁছোয়। ফলে এইসব দেশ যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়লে বরাত থাকলেও চা পাঠানো সম্ভব হবে না। তার জেরে বিদেশি মুদ্রা আয়ের উৎসও ধাক্কা খেতে পারে। এমন অবস্থায় চা রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্তরা উদ্বেগে থাকলেও এখনই অবশ্য আশাহত হচ্ছে না। এনিয়ে এশিয়ান টি এক্সপোর্টার্সের কর্ণধার মোহিত আগরওয়াল বলেন, ‘এখন অসম বা উত্তরবঙ্গে চা উৎপাদন সেই অর্থে শুরু হয়নি। মজুত চা-ও খুব একটা নেই। তবে যুদ্ধ যদি প্রলম্বিত হয় তবে এর প্রভাব আমাদের চা শিল্পের পক্ষে ভালো হবে না। বিশেষ করে এপ্রিল মাস পর্যন্ত যুদ্ধ চললে সমস্যা বাড়বে। তবে ততদিনে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে এমনটাই আশা তাঁর।’
আবার কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিস্টা)-এর সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, লক্ষ্য ছিল ৩০০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা রপ্তানির মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলা। এখন আরব দুনিয়াতে যুদ্ধের থাবা আশঙ্কা ও উদ্বেগ দুই-ই তৈরি করল। রাশিয়া সহ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দেশগুলির পর আরবের দেশগুলিই ভারতীয় চায়ের মূল ক্রেতা।
