India nervous over Varun Chakraborty’s kind

India nervous over Varun Chakraborty’s kind

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


মর্নি মর্কেল চট করে রাগেন না। ক্রিকেটজীবনে ভারতের বোলিং কোচ দানবীয় পেসার ছিলেন বটে। কিন্তু খেলার বাইরে বরাবরই তিনি সোজা-সরল। শোনা যায়, মর্কেল পরিবারই তাই। নম্র। শান্ত। মিতভাষী। ছাপোষা যাপনে বিশ্বাসী। দিন দশেক আগের আমেদাবাদে, সুপার এইটে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সম্মুখসমরের সময়, দুই ভাই মর্নি এবং অ‌্যালবি–দুই বিপরীত শিবিরে ছিলেন। অ‌্যালবি মাতৃভূমির জার্সিতে। সাপোর্ট স্টাফের চেয়ারে। আর মর্নি ভারতের ছাউনিতে। গৌতম গম্ভীরের বিশ্বস্ত যোদ্ধার রণসজ্জায়। সে সময় দুই ক্রিকেটার-ভ্রাতার মা, মারিয়ানা মর্কেলকে ফোনে ধরার শত চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। বলা হয়েছিল যে, মারিয়ানা সাধারণ মানুষ। সহজ মানুষ। জ্ঞানত প্রচারবিমুখ। দুই সন্তানের দ্বৈরথের মতো মুখরোচক বিষয় নিয়ে কথা বলার ‘ফাঁদে’ পা তিনি দেবেন না।

এই বিষয়ে আরও খবর

তা, সেই মর্নি মর্কেল বুধবার বেশ খানিকটা রেগে গেলেন। আর সেটাও প্রকাশ‌্যে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে, ওয়াংখেড়ের খোলা ময়দানে! এ দিন মর্নির উষ্মার নিশানা ছিলেন যিনি, মাসখানেক আগেও নামটা বললে, ভারতবর্ষের ক্রিকেট-জনতা নির্ঘাৎ সাংবাদিককে মস্তিষ্কের ডাক্তার দেখাতে বলত! যাঁর নাম–বরুণ চক্রবর্তী! বুধবার ভারতীয় টিমের মাত্র জনা চারেক ক্রিকেটার ভারতীয় টিমের ঐচ্ছিক প্র্যাকটিসে এসেছিলেন। রিঙ্কু সিং। তিলক বর্মা। ওয়াশিংটন সুন্দর। এবং বরুণ। দ্রুত আবিষ্কার করা গেল যে, সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটা নেটে বরুণ-রহস‌্যের ঘষামাজায় ব্রতী হয়ে পড়েছেন গম্ভীরের দুই বিশ্বস্ত সাপোর্ট স্টাফ মর্নি মর্কেল এবং রায়ান টেন দুশখাতে। তাঁর হারানো জাদুগরী ফেরানোর অভিলাষে। দেখলাম, পিচে দু’টো ‘স্পট’ তৈরি করে ফেলা হয়েছে। আন্দাজ অনুপাতে, তিন এবং পাঁচ মিটার দূরত্বের। বরুণকে বলা হল, নির্দিষ্ট সেই স্পটে বল ‘পিচ’ করাতে। বিস্ফারিত হয়ে দেখছিলাম যে, কোচরা যা বলছেন, তা করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বরুণ। কিন্তু কিছুতেই নির্দিষ্ট দুই স্পটে তাঁর বল পড়ছে না। উল্টে শর্ট লেংথে পড়ছে। মর্নিকে যার পর দৃশ‌্যতই বিরক্ত দেখাল। মিনিট দশেকের বিরতি নিলেন একবার। ফের ডেকে পাঠালেন বরুণকে। আবার ‘মকসো’ চলল। শেষে দেখা গেল, ভারতের ফিল্ডিং কোচ টি. দিলীপ হাতে ব‌্যাটারের ভূমিকায় উদয় হয়েছেন! কিন্তু ভারতীয় রহস‌্য স্পিনার আকাঙ্খার লেংথ খুঁজে আর পেলেন না। বরং অধিকাংশ সময় কোমরে হাত দিয়ে চিত্রার্পিতের মতো দাঁড়িয়ে থাকলেন বরুণ। একরাশ নৈরাশ‌্য নিয়ে। কী করবেন, কী করা উচিত, কিছুই যেন বুঝতে পারছেন না।

T20 World Cup: India worried over Varun Chakraborty's formT20 World Cup: India worried over Varun Chakraborty's form
অনুশীলনে গম্ভীর-বুমরাহ। ছবি: সংগৃহীত।

পরে সাংবাদিক সম্মেলনে মর্নিকে জিজ্ঞাসা করা হল, বরুণের সঙ্গে পিচের মধ্যিখানে তাঁর সুদীর্ঘ আলোচনা নিয়ে। নিরুত্তাপ গলায় মর্নি বলে গেলেন, ‘‘পুরোটাই সাধারণ কথাবার্তা। আমি ওকে কয়েকটা বিষয় নিয়ে স্বচ্ছতা দিতে চাইছিলাম। খেলার আগের দিন বরুণ একটা স্টাম্প রেখে সাধারণত প্র্যাকটিস করে। সেটাই করছিল।’’ ইদানিংকালে টিমের ‘অসুখ-বিসুখ’ কেউই প্রকাশ‌্যে সাংবাদিক সম্মেলনে আর স্বীকার করে না। কিন্তু বাস্তব হল, লেংথ এবং নিজের ‘স্টক বল’ নিয়ে ঘোর ঝঞ্ঝাটে পড়েছেন বরুণ। কোথাও কোথাও তিনি নাকি সেটা স্বীকারও করেছেন। বরুণের হাতে দু’টো গুগলি রয়েছে। প্রথমটা, কব্জি ব‌্যবহার করে প্রয়োগ করেন। দ্বিতীয়টা, আঙুল। যা সজোরে ডান হাতি ব‌্যাটারের ভেতরে আসে। যা তাঁর এতদিনের সফল ‘পাশুপাত’। বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত যার ‘প্রতিষেধক’ বার করতে পারেননি বিপক্ষ ব‌্যাটাররা। কিন্তু বিশ্বকাপে পারছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বপ্রথম দেখিয়ে দিয়েছে, বরুণকে অফস্পিনার ভেবে খেললে, সামলে দেওয়া সম্ভব। নিছক সামলানো নয়, পাল্টা আক্রমণ করা সম্ভব। পরবর্তীতে যে পথ জিম্বাবোয়ে অনুসরণ করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে। স্মরণে রাখা প্রয়োজন, দু’একটা উইকেট পেলেও গত তিন ম‌্যাচে সম্মিলিত ১২২ রান দিয়েছেন বরুণ! যার পর তাঁকে আর যা-ই হোক, পূর্বের মতো রহস‌্য-পরিবৃত ঐন্দ্রজালিকের পর্যায়ে রাখা যাচ্ছে না। 

মর্নি বলে গেলেন, ‘‘পুরোটাই সাধারণ কথাবার্তা। আমি ওকে কয়েকটা বিষয় নিয়ে স্বচ্ছতা দিতে চাইছিলাম। খেলার আগের দিন বরুণ একটা স্টাম্প রেখে সাধারণত প্র্যাকটিস করে। সেটাই করছিল।’’

এই বিষয়ে আরও খবর

লোকপ্রবাদে আছে, ঈশ্বর একটা দরজা বন্ধ করলে, দ্বিতীয়টা খুলে দেন। যা বুঝছি, ভারতীয় টিমের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বোলিং-বৈরাগ‌্য গ্রাস করেছে বরুণকে। কিন্তু সঞ্জু স‌্যামসনের আবার আবির্ভাব ঘটেছে ব‌্যাট নামক জাদুদণ্ড হাতে নিয়ে। গত রোববার ইডেনে সঞ্জু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অনির্বচনীয় ৯৭ রানের ইনিংস না খেললে, ভারতীয় টিম আজ ওয়াংখেড়েতে থাকত কি না সন্দেহ! শুনলাম, সঞ্জুর ইনিংস দেখে এতটাই প্রীত হয়েছেন গম্ভীর যে, তাঁকে নাকি বলেছেন–এটা এবার থেকে তোমার বিশ্বকাপ! ফিরে এসেছ যখন, কাজ শেষ করে ফেরো। মর্নিও এ দিন বলে গেলেন, ‘‘কঠিন সময়ের বিরুদ্ধে লড়ে যে ভাবে ফিরে এল সঞ্জু, দেখার মতো।’’ শুনছিলাম আর বিস্মিত লাগছিল। মাসখানেকের মধ‌্যে বরুণ আর সঞ্জুর স্থান কী অবিশ্বাস‌্য বদলাবদলি হয়ে গেল! বিশ্বকাপের আগে বরুণ ছিলেন রাজপথে। সঞ্জু গলিঘুঁজিতে। বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব পেরোতে না পেরোতে, সঞ্জু রাজপথে। বরুণ গলিতে! অবশ‌্য ক্রিকেটই যে তাই। ক্রিকেটে আজ যে রাজা, কাল সে ফকির। সাধে কী আর ক্রিকেটের সঙ্গে জীবনের তুলনা চলে? জীবন আর ক্রিকেট–দু’টোই যে দিন শেষে ঘোর অনিত‌্য!

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *