উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের পর এবার বড়সড় সংকটের মুখে ভারতের গ্যাস সরবরাহ (India gasoline provide disaster) ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং গ্যাসের কালোবাজারি ও প্যানিক বুকিং রুখতে কেন্দ্র সরকার দেশজুড়ে ‘এসমা’ (ESMA) জারি করল। মঙ্গলবার থেকেই রান্নার গ্যাসের বুকিং সংক্রান্ত নিয়মে আমূল বদল আনা হয়েছে। এখন থেকে আগের বুকিংয়ের ২৫ দিনের আগে নতুন করে সিলিন্ডার বুক করা যাবে না।
বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়ল
আগে নিয়ম ছিল ২১ দিন অন্তর গ্যাস বুক করা যাবে, কিন্তু যুদ্ধের আবহে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের মতে, অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সিলিন্ডার মজুত করছেন, যার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এই কালোবাজারি বন্ধ করতেই ২৫ দিনের ‘লক-ইন পিরিয়ড’ চালু করা হয়েছে।
সরবরাহের নতুন অগ্রাধিকার তালিকা
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গ্যাসের জোগান সীমাবদ্ধ থাকায় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে:
- গৃহস্থালি ও পিএনজি: রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে। পাইপলাইনের মাধ্যমে আসা পিএনজি (PNG) পরিষেবায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
- সিএনজি ও গণপরিবহণ: যানবাহন ও অটো চলাচলের জন্য সিএনজি সরবরাহকে ১০০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- শিল্প ও সার উৎপাদন: চা শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে গত ৬ মাসের গড় ব্যবহারের ৮০ শতাংশ এবং সার কারখানায় ৭০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
- তেল শোধনাগার: শোধনাগারগুলোর জন্য বরাদ্দ কমিয়ে ৬৫ শতাংশ করা হয়েছে।
- রেস্তরাঁ: বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ঠিক করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যুদ্ধের ছায়ায় জ্বালানি বাজার
হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে গ্যাস আমদানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভারতের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় বড় অংশই আমদানি করা হয়। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় শোধনাগারগুলোকে প্রোপেন ও বিউটেন ব্যবহার করে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকার আশ্বস্ত করেছে যে বর্তমানে যথেষ্ট মজুত রয়েছে, তবুও ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কায় এই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
