উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং কূটনৈতিক শীতলতার (Diplomatic relations) পর অবশেষে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে (India Bangladesh relations) নতুন সূর্যোদয়ের ইঙ্গিত মিলছে। গত দেড় বছর ধরে চলা রাজনৈতিক পালাবদল ও অস্থিরতায় দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে যে ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল, তারেক রহমানের (Tarique Rahman) নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতেই সেই বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো— খুব শিগগিরই বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটনসহ সব ধরনের ভিসা (Indian Visa) পরিষেবা পুরোপুরি চালু করতে চলেছে ভারত।
বৃহস্পতিবার সিলেটের ডিস্ট্রিক্ট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের শীর্ষস্থানীয় কনস্যুলার আধিকারিক অনিরুদ্ধ দাস এই ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে চিকিৎসা ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত ট্রাভেল ভিসাসহ অন্যান্য সব ধরনের ভিসা প্রদান স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলছে। অনিরুদ্ধ দাসের কথায়, ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান। প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতি এক সুতোয় গাঁথা।’
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে চিড় ধরে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারত-বিরোধী মনোভাব চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে কট্টরপন্থী নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দুই দেশের মধ্যে রীতিমতো ‘ভিসা-যুদ্ধ’ শুরু হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীর ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলি (IVAC) বন্ধ করে দেয় ভারত। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় মিশনগুলোতেও ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে ঢাকা।
তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি প্রধান তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামতের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছিল। আগস্টের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৮,০০০ ভিসা ইস্যু হতো, তা কমে ১,৫০০-তে নেমে এসেছিল। এখন সব পরিষেবা স্বাভাবিক হলে দুই দেশের সাধারণ মানুষ, যারা এই সম্পর্কের প্রধান অংশীদার, তারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
