ব্রিসবেন: ব্রিসবেনের গাব্বা। অজি ক্রিকেট ঐতিহ্যের অন্যতম স্তম্ভ। শুক্রবার সেই গাব্বাতে আরও এক ইতিহাসের হাতছানি ‘মেন ইন ব্লু’-র সামনে। হোবার্টের পর গোল্ড কোস্টের বাইশ গজে সোনা ফলেছে। জয়ের হ্যাটট্রিকে এবার গাব্বায় তেরঙ্গা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ।
সিরিজে ২-১ এগিয়ে থাকা সূর্যকুমার যাদবদের যা পাখির চোখ। ওডিআই সিরিজের হারের বদলার সঙ্গে গাব্বায় ২০২০-’২১ সালের টেস্ট সফরে ঋষভ পন্থদের স্মরণীয় স্মৃতি উসকে দেওয়া। সিরিজ হারানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। সামনে দুইটি সম্ভাবনা- এক, সিরিজ ড্র, দুই, সিরিজ পকেটে পোরা। অজিরা যেখানে নামবে ঘরের মাঠে সিরিজ হাতছাড়ার লজ্জা এড়াতে। ফলস্বরূপ, গাব্বা-দ্বৈরথে আগামীকাল মনস্তাত্বিক সুবিধা ভারতের পক্ষেই।
পরিস্থিতি, পরিবেশ, পিচ- তিন ফ্যাক্টরেই অবশ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা। গাব্বার পিচ মূলত পেস, বাউন্সের জন্য পরিচিত। আগামীকাল টি২০ সিরিজের নির্ণায়ক ম্যাচে সেই চরিত্র আদৌ কতটা বদলাবে, বলা মুশকিল। ফলে অক্ষর প্যাটেল, ওয়াশিংটন সুন্দর, বরুণ চক্রবর্তীদের স্পিন দিয়ে অজি ব্যাটারদের ঘায়েল করার ছক কতটা কার্যকর হবে, দোলাচল থাকবে। থাকছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও।
বাড়তি নজর তাই সেঞ্চুরি থেকে এক উইকেট দূরে থাকা জসপ্রীত বুমরাহ, অর্শদীপ সিংয়ের পেস জুটির দিকে। বুমরাহ সিরিজে সেভাবে উইকেটের মধ্যে নেই। কিন্তু লাল হোক বা সাদা, হাতে বল মানে সবসময় উইকেটের গন্ধ। যশস্বীর ‘বুমবুম’ বোলিং সেদিক থেকে গাব্বায় সূর্যর তুরুপের তাস হতে পারে। অর্শদীপ স্বমেজাজে আবারও টি২০-তে নিজের জাত চেনাচ্ছেন।
উঁকি মারছে বাড়তি পেসার নিয়ে খেলার ভাবনা। প্রশ্ন হর্ষিত রানা নাকি সিরিজে এখনও সুযোগ না পাওয়া প্রসিধ কৃষ্ণা? আগামীকাল তৃতীয় পেসার নেওয়া হলে, কাকে দেখা যাবে বুমরাহ-অর্শদীপের সঙ্গী হিসেবে? পাল্লা ভারী হর্ষিতের। সিরিজে ব্যাটে-বলে কিছুটা হলেও ছাপ রেখেছেন কেকেআরের পেস বোলার। গম্ভীরের অকৃত্রিম স্নেহ তো রয়েছেই।
বাড়তি পেসার মানে ‘উইনিং’ কম্বিনেশন ভাঙা। একজন স্পিনার কম খেলানো। সেক্ষেত্রে বসাতে হবে শেষ দুই ম্যাচে জয়ের অন্যতম কারিগর ওয়াশিংটন সুন্দরকে! এই মুহূর্তে যা বেশ কঠিন। সবমিলিয়ে সিরিজ ফয়সালা ম্যাচে ভারতীয় একাদশের চেহারা কী রকম হবে, ভবিষ্যদ্বাণী করা মুশকিল।
মিচেল মার্শদের সামনে মূল কাঁটা একঝাঁক তারকার অনুপস্থিতি। জোশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেডদের শূন্যতা পূরণ যে সহজ নয়, গত দুই ম্যাচে ভালোমতো টের পেয়েছে ক্যাঙারু ব্রিগেড। বিশেষত, গোল্ড কোস্টে বৃহস্পতিবার যেভাবে ভারতীয় স্পিন ত্রয়ীর সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে ব্যাটাররা, চিন্তা বাড়াতে বাধ্য কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের।
ঘরের মাঠে সিরিজ অমীমাংসিত রাখতে হলে ব্যাটিংয়ের ফাঁকফোকর পূরণ জরুরি। ফলে আগামীকাল বাড়তি দায়িত্ব টিম ডেভিড, মার্কাস স্টোয়িনিস, মিচেল মার্শদের ওপর। সূর্যদের লক্ষ্য সেখানে, এই তিন ‘কাঁটাকে’ যত দ্রুত সম্ভব ডাগআউটে ফেরানো। হিসেব মিললে, ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে সফর শেষের রাস্তা মসৃণ হবে।
অস্ট্রেলিয়া শুধু নয়, ব্যাটিং সমস্যা ভারতীয় শিবিরেও। কারারা ওভালে জেতার পর ব্যাটারদের দলগত প্রয়াসের কথা বলেছিলেন সূর্য। দাবি করেছিলেন, কারারা ওভালের কঠিন পিচে (অসমান বাউন্স) ১৬৭ রানে পৌঁছোনোও কৃতিত্বের। কিন্তু বাস্তব হল, বেশিরভাগই ব্যাটারই ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগছে।
বিশেষত, সূর্য স্বয়ং। তিলক ভার্মার (০, ২৯ ও ৫) রান না পাওয়া তালিকা দীর্ঘ করেছে। ভালো শুরু করেও ফিনিশ দিতে পারছেন না অভিষেক। প্রথম বল থেকে মারার ছক ধরা পড়ে যাচ্ছে বোলারদের কাছে। ব্যাটিং-স্ট্র্যাটেজি না বদলালে রাজপাট বজায় রাখা সহজ হবে না অভিষেকের।
মিডল অর্ডারেও বারবার ধস নামছে। গত ম্যাচেও ১৪ ওভারে ১২১/২ স্কোরের সুবিধাজনক অবস্থা হাতছাড়া হয় পরপর উইকেট খুইয়ে। শেষপর্যন্ত অক্ষর প্যাটেলের ক্যামিও ইনিংসে দেড়শো পার। সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে আগামীকাল নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পারা যার সুযোগ নিতে মরিয়া থাকবেন।
টস গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। গাব্বায় গত ১১টি টি২০ ম্যাচে আগে ব্যাটিং করা দল বেশি সফল। রান তাড়া তুলনায় কঠিন। টি২০ দ্বিপাক্ষিক দ্বৈরথে অজিদের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে স্কোরলাইন ২০-১১। জয়ের সংখ্যা হারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। শনিবার যে আধিপত্য বজায় রেখে গৌতম গম্ভীরের দল সিরিজ জিততে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার।
