প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: তথাকথিত অশিক্ষিত বা অসচেতন সমাজ নয়, এইচআইভি (HIV)-র থাবা এবার খোদ সমাজের উচ্চবিত্ত ও সুপ্রতিষ্ঠিত মহলে। পূর্ব বর্ধমান (East Burdwan Information) জেলায় নতুন করে ৯০ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগীর (HIV Constructive Circumstances in Burdwan) সন্ধান পাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর মধ্যে কেবলমাত্র বর্ধমান শহরেরই ৩০ জন যুবক রয়েছেন, যাঁরা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। সমকামী সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসুরক্ষিত যৌন আচরণই এই সংক্রমণের মূল কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর।
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, সম্প্রতি দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভোগা এক যুবকের পরীক্ষা করালে তাঁর এইচআইভি পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর তাঁর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা শুরু করলে একে একে আরও আক্রান্তের হদিশ মেলে। তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে পরিচয়ের পর অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণেই সংক্রমণ বৃদ্ধি ঘটেছে। এই যৌন র্যাকেটের জাল দিল্লি থেকে চেন্নাই, কিংবা কলকাতা থেকে মুম্বই, দেশের সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি ।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) জয়রাম হেমব্রম জানান, “লাগাতার সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকছেন না। আমরা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াচ্ছি। শুধুমাত্র পুরুষ নয়, মহিলা ও যুবসমাজের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়ছে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।” জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়ও এই তথ্যে সিলমোহর দিয়েছেন। বর্ধমান ও কালনা শহর এলাকায় সংক্রমণের হার বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী।
বিশিষ্ট চিকিৎসক আশরাফুল মির্জা বলেন, “শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও যে সচেতনতার অভাব রয়েছে, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। এই রোগ এখন গোপন করার কিছু নেই, আধুনিক চিকিৎসায় ওষুধ দিয়ে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই উপসর্গ থাকলে বা সন্দেহ হলে দ্রুত পরীক্ষা করানো উচিত।” গোপনীয়তা বজায় রেখে পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিংয়ের ওপর বর্তমানে জোর দিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
