উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। সেই বিতর্কিত বিয়ে ও বধূ নির্যাতনের মামলায় এবার বড় স্বস্তি পেলেন তিনি। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Court docket) বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে হিরণ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ঋতিকা গিরির আগাম জামিন মঞ্জুর হয়েছে। তবে জামিন পেলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, প্রতি ১৫ দিন অন্তর তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে বিধায়ককে।
গত ডিসেম্বরে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল (Second Marriage Controversy) হতেই শোরগোল পড়ে যায়। হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, তাঁদের মধ্যে কোনও আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। ১১ ডিসেম্বর ২০০০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের ১৯ বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। এই অবস্থায় হিরণ ঋতিকা গিরি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করায় হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী তা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে দাবি করেন তিনি।
অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর মেয়ে নিয়াসা আনন্দপুর থানায় হিরণের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার এবং এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বিধায়কের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। অনিন্দিতার দাবি ছিল, হিরণ প্রভাবশালী হওয়ায় দিনের পর দিন তাঁদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়েছেন এবং এখন সমাজসেবার নামে বেআইনিভাবে দ্বিতীয় সংসার করছেন।
বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার সময় চেন্নাইয়ে ছিলেন হিরণ। কলকাতায় ফিরেই গ্রেফতারি এড়াতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। হিরণের আইনজীবীরা দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। যদিও আইনি লড়াই দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি হিসেবে আগাম জামিন দিয়েছে। এই রায় খড়্গপুরের বিধায়কের জন্য রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
