উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (Bangladesh Election 2026) আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার ঠিক আগেই সে দেশে ফের সংখ্যালঘু হামলার ঘটনা ঘটল। সোমবার রাতে ময়মনসিংহে সুশেন চন্দ্র সরকার (৬২) নামে এক হিন্দু চাল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুনের (Hindu Businessman Killed in Bangladesh) অভিযোগ উঠল একদল দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। খুনের পর দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লুঠ করে চম্পট দেয় তারা।
দোকানের ভেতরেই পড়ে ছিল রক্তাক্ত দেহ
নিহত সুশেন চন্দ্র সরকার দক্ষিণকান্দা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বগার বাজার মোড়ে ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি চালের দোকানের মালিক ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১১টা নাগাদ যখন তিনি দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন খুঁজতে বেরিয়ে দোকানের শাটার তোলা মাত্রই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পুত্র সুজন সরকার জানিয়েছেন, তাঁদের কোনো শত্রু ছিল না। কেবল টাকা লুঠের উদ্দেশ্যে নাকি সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে এই খুন, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। ময়মনসিংহেই সম্প্রতি আরও এক হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকেও পিটিয়ে ও পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছিল।
উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত
বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি যে বাংলাদেশে চরমপন্থীদের দ্বারা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার একটি নির্দিষ্ট ধরণ (Sample) বারবার ফিরে আসছে। এই ধরণের ঘটনাকে স্রেফ ব্যক্তিগত বিবাদ বা রাজনৈতিক কারণ বলে এড়িয়ে যাওয়া অপরাধীদের আরও সাহস জোগাচ্ছে।”
অনিশ্চয়তায় সংখ্যালঘু সমাজ
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশে (Bangladesh Information) হাজার হাজার হিন্দু পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের মতো ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের (Muhammad Yunus) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়েও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ভোট, তার আগে এই খুন সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
